অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও নিলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে। বুধবার দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক আদেশে প্রধানমন্ত্রীকে নতুন এই দায়িত্ব দেওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপ দেশটি গত কয়েক মাস ধরে ভয়াবহ আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খাবার, জ্বালানি ও ওষুধের মতো নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্য-সামগ্রীর ঘাটতি ও উচ্চমূল্যের কারণে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে আসায় সরকারবিরোধী আন্দোলন করছেন লাখ লাখ মানুষ।

সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে বেলআউট চেয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কাউকে দিতে না পারায় ৭৩ বছর বয়সী বিক্রমাসিংহেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছে প্রেসিডেন্টের দপ্তর। নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ায় এখন তিনি আইএমএফের সঙ্গে বেলআউটের আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন।

কে এই পদের দায়িত্ব নেবেন, তা নিয়ে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের শ্রীলঙ্কা পোদুজানা পেরামুনা (এসএলপিপি) পার্টির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহের বিরোধের কারণে নিয়োগ বিলম্বিত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলোচনায় জড়িত দেশটির শীর্ষ এক রাজনীতিবিদ এএফপিকে বলেছেন, প্রেসিডেন্টের দল অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশকে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা থেকে বের করে আনার জন্য এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিজে নিতে চান বলে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে। রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতি এবং খাবারের দামের ঊর্ধ্বগতিতে চরম বিপাকে পড়া দরিদ্র লঙ্কানদের জন্য সহায়তাসহ বিক্রমাসিংহে শিগগিরই সংশোধিত বাজেট পাস করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, মঙ্গলবার আইএমএফের সাথে কর্মকর্তা পর্যায়ের আলোচনা শেষ হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন-ভিত্তিক ঋণদাতা এই প্রতিষ্ঠান শ্রীলঙ্কাকে বেলআউট প্যাকেজ দিতে রাজি হতে আরও ছয় মাস সময় লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কা ইতোমধ্যে ৫১ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণে খেলাপি হয়েছে এবং মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড ও অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে সহায়তা করার জন্য আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *