ভারতের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন শারদ পাওয়ার?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী মাসে। সংসদীয় সরকারশাসিত ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে তাই ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক মহলে।

বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ একজন জেষ্ঠ্য বিজেপি নেতা। কেন্দ্রীয় সরকারে আসীন বিজেপি এখনও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেনি; তবে সোমবার এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতের  বিভিন্ন বিরোধী দল আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভারতের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) প্রধান শারদ পাওয়ারকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা ও মুখপাত্র মল্লিকার্জুন খাড়গে রোববার মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাইয়ে শারদ পাওয়ারের সঙ্গে দেখা করে দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি অবহিত করে বলেছেন, কংগ্রেস পার্টিপ্রধান সোনিয়া গান্ধী শারদ পাওয়ারকে ভারতের পরবর্তী পররাষ্ট্রপতি হিসেবে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তার আগের দিন রোববার দিল্লি ও পাঞ্জাব রাজ্য সরকারে আসীন দল আম আদমি পার্টির মুখপাত্র সঞ্জয় সিং এনসিপি প্রধানের সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছেন, যদি শারদ ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ান— সেক্ষেত্রে তাকে সমর্থন দেবে আম আদমি পার্টি।

ভারতের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শারদ গোভিন্দ্রাও পাওয়ারের জন্ম ১৯৪০ সালে, ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের বারামতি জেলায়। ১৯৫৮ সালে, ১৮ বছর বয়সে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় তার। দীর্ঘ চার দশক থাকার পর দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে ১৯৯৯ সালে কংগ্রেস ত্যাগ করেন তিনি, গঠন করেন নিজের রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিরক্ষা ও কৃষি মন্ত্রী, প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা— প্রভৃতি নানা ভূমিকায় এসেছেন শারদ। বহু রাজনৈতিক জোট ও কোয়ালিশন সরকার গড়ে তোলা ও ভাঙার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

তবে ভারতের এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বরাবরই কঠোরভাবে বিজেপিবিরোধী। মহারাষ্ট্রে বিজেপিকে ঠেকানোর জন্য তিনি এমনকি কংগ্রেসের সঙ্গে আদর্শগতভাবে বিরোধী শিবসেনার সঙ্গে জোট করতেও পিছপা হননি।

কংগ্রেসের মুখপাত্র খাড়গে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ভব ঠাকরে, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এ বিষয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এই তিন মুখ্যমন্ত্রীই কট্টর বিজেপিবিরোধী নেতা হিসেবে পরিচিত ভারতের রাজনীতিতে।

এদিকে, বিজেপি যদিও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি, তবে দলটির সভাপতি জে পি নাড্ডা এবং ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিজেপির জেষ্ঠ্য নেতা রাজনাথ সিংকে এ বিষয়টি দেখভাল করার দায়িত্ব দিয়েছে বিজেপির হাইকমান্ড।

বিজেপি একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, দলের অনেকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী, তবে হাইকমান্ড দলীয় প্রার্থীর পরিবর্তে বিজেপির মিত্রদল তেলেঙ্গানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির প্রধান কালভাকুন্তলা চন্দ্রশেখর রাওকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপি হাইকমান্ডের।

২০১৭ সালের জুলাইয়ে ভারতের প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হন রামনাথ কোবিন্দ। আগামী ২৫ জুলাই তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। গত ৯ জুন ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে। সেই অনুযায়ী, ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ভারতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।

মন্ত্রিপরিষদ (ওয়েস্ট মিনিস্টার) সরকারশাসিত ভারতে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য ওয়েস্ট মিনিস্টার ধাঁচের সরকারের মতোই নিয়মতান্ত্রিক সরকার প্রধান। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের সহায়তা ও পরামর্শ অনুযায়ী তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করেন এবং শাসন সংক্রান্ত যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে সাংবিধানিকভাবে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শ মেনে চলতে বাধ্য।

ভারতের তিন স্তরের আইনসভা—রাজ্য, লোক ও বিধানসভার সদস্যদের গোপন ভোটের ভিত্তিতে নির্বাচিত হন দেশটির রাষ্ট্রপতি। তবে লোক সভা ও বিধানসভার মনোনীত সদস্যরা এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না।

এমপি ও বিধায়করা ভোট দেওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের জনসংখ্যার ভিত্তিতে ওই ভোটের মূল্যায়ন হয় এবং স্বাভাবিকভাবেই তাতে তারতম্য থাকে। উদাহারণ হিসেবে বলা যায়, গত ২০১৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উত্তর প্রদেশ বিধানসভার একজন বিধায়কের ভোটের মূল্য যেখানে ছিল ২০৮ পয়েন্ট, সেখানে সিকিমের একজন বিধায়কের ভোটের মূল্য ছিল ৭ পয়েন্ট।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *