সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন
গাজী তাহেরুল আলম লিটন: ভোলার ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত লালমোহন পৌরসভার প্যানেল মেয়র গঠন নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে এবং তা বাতিল চেয়ে ভোলা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ১২জন কাউন্সিলর।
বৃহস্পতিবার পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল কবীরকে ১নং প্যানেল মেয়র, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদাউসকে ২নং প্যানেল মেয়র ও ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন হিরণকে ৩নং প্যানেল মেয়র করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি আসে। এতে নড়েচড়ে বসেন এবং জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন পৌরসভার বাকী ১২ কাউন্সিলর।
তারা হলেন, ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরহাদ হোসেন মেহের, ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অহিদুর রহমান মাস্টার, ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রায়হান মাসুম, ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইমাম হোসেন হাওলাদার, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম মাসুদ, ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও গঠিত ৩নং প্যানেল মেয়র আনোয়ার হোসেন হিরণ, ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজ মাতাব্বর, ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ, ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন ফরাজী, ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর লুৎফা বেগম, ৭,৮,৯ নাং ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর জলি বেগম ও ১০,১১,১২ নং ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর ফেরদৌস বেগম।
তাদের দাবি, জালিয়াতির মাধ্যমে এ প্যানেল মেয়র ঘোষণা করা হয়েছে এবং তা বাতিল চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেন তারা। পরে স্থানীয় সরকার ভোলা এর উপ-পরিচালক রাজিব আহমেদকে লালমোহন পৌরসভার সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য দায়ীত্ব দেওয়া হয়।
লালমোহন পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরহাদ হোসেন মেহের জানান, ২০২১ সালের ১৯ জুন লালমোহন পৌরসভায় মাসিক সাধারণ সভার আহ্বান করা হয়েছিল। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন। ওই সভায় বাজেট অধিবেশনের উপর আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেই রেজুলেশন দিয়েই জেলা প্রশাসকের কাছে প্যানেল মেয়র গঠনের নাম পাঠান পৌরসভার মেয়র এমদাদুল ইসলাম তুহিন।
পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অহিদুর রহমান মাস্টার বলেন, প্যানেল মেয়র গঠন সংক্রান্ত আলাপ আলোচনা হয়েছিল। তবে কোনও সভা হয়নি। রমজানের শুরু থেকে অসুস্থ হয়ে ঢাকায় রয়েছি। এ সুযোগে আমাকে বাদ দিয়ে প্যানেল মেয়র গঠন হয়েছে কিনা জানা নেই।
পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ বলেন, প্যানেল মেয়র গঠন নিয়ে সভা হলে সেখানে সকল কাউন্সিলর, স্থানীয় সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমে কর্মীরাও নিমন্ত্রণ পায়। এ সংক্রান্ত কোনও সভা কখনো হয়নি, আপনারা গণমাধ্যমে কর্মীরা কি কোনও নিমন্ত্রণ পেয়েছিলেন?
এদিকে প্যানেল মেয়র বিতর্কে পৌরসভার ১২জন কাউন্সিলর এক হয়ে জরুরী সভার আয়োজন করেন। ওই সভায় গঠিত ৩নং প্যানেল মেয়র আনোয়ার হোসেন হিরণ সভাপতিত্ব করেন। তিনি এই প্যানেল মেয়র গঠন প্রক্রিয়া অবৈধ ও জালিয়াতির মাধ্যমে হয়েছে বলে দাবী করেন এবং প্যানেল মেয়র গঠনের রেজুলেশনেও তার স্বাক্ষর নেই বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে লালমোহন পৌরসভার মেয়র এমদাদুল ইসলাম তুহিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।