স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর জন্য বাংলাদেশকে কোনো শাস্তি দেবে না আইসিসি, যে সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে তারা। এছাড়া ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ২০৩১ সালের পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের আগে বাংলাদেশকে আরও একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করতে দেওয়া হবে।
একটি বিবৃতিতে আইসিসি বলেছে, ‘আইসিসি একমত হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ওপর কোনো আর্থিক, ক্রীড়াসংক্রান্ত বা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা হবে না। বিসিবি যদি চায় তবে তাদের ‘ডিসপিউট রেজুলিউশন কমিটি’ বা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার বজায় থাকবে। আইসিসির বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এই অধিকার বিদ্যমান এবং তা অক্ষুণ্ণ রয়েছে।’
তারা আরও বলেছে, ’আইসিসির এই দৃষ্টিভঙ্গি তার নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার নীতি দ্বারা পরিচালিত এবং এটি শাস্তির পরিবর্তে সহযোগিতামূলক সমর্থনের অভিন্ন লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করে।’
আইসিসি বলেছে, ’এই সমঝোতার অংশ হিসেবে একটি চুক্তি হয়েছে যে, ২০৩১ সালের আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করবে; যা আইসিসির স্বাভাবিক আয়োজক প্রক্রিয়া, সময়সীমা এবং পরিচালনগত প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভরশীল। এটি আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতার ওপর আস্থার প্রতিফলন এবং দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য তার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থবহ আয়োজক সুযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে আইসিসি-র প্রতিশ্রুতিকে সুদৃঢ় করে।’
’আইসিসি, পিসিবি এবং বিসিবি—অন্যান্য সদস্যদের পাশাপাশি—ক্রীড়া জগতের সর্বোত্তম স্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন সংলাপ, সহযোগিতা এবং গঠনমূলক সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সকল অংশীজন স্বীকার করে যে, এই সমঝোতার মূল উদ্দেশ্য হলো খেলার সততা রক্ষা করা এবং ক্রিকেট ভ্রাতৃত্বের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা।’
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতে গিয়ে খেলার অনুমতি না পাওয়ায় চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে স্কটল্যান্ড। বিসিবি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দিলেও আইসিসি বোর্ড তার বিপক্ষে ভোট দেয় এবং পরিবর্তে বাংলাদেশের জায়গায় অন্য দলকে সুযোগ করে দেয়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে বিসিসিআই অনির্দিষ্ট কারণে আইপিএল থেকে বাংলাদেশি বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়, যখন পাকিস্তান সরকার জানায় যে, তাদের দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি বয়কট করবে; এবং তারা এই সিদ্ধান্তকে টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়ার সঙ্গে যুক্ত করে।
গত রোববার লাহোরে আইসিসির ডেপুটি চেয়ার ইমরান খাজা পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ করেন। পিসিবির মতে, তাদের বয়কটের বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তবে বিসিবির পরিস্থিতির সমাধান করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পরই পাকিস্তান সরকার জানায়, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অনুরোধে তারা পাকিস্তান দলকে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামানোর অনুমতি দিচ্ছে।