স্পোর্টস ডেস্ক: ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর তোপের মুখে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। এরপরই শুরু হয় তোলপাড়। ক্রিকেটাররা তখন সিলেটে বিপিএল খেলায় ব্যস্ত, সে সময়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে ভারত থেকে ভেন্যু সরানোর পরামর্শ দিয়ে আইসিসিকে চিঠি দেওয়ার পরামর্শ দেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
এরপর দুই দফায় চিঠি আদান প্রদান হলেও কোনো লাভ হয়নি। পরে আইসিসি একটি সভা ডাকে। তারপর আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে আইসিসি জানিয়ে দেয়, বিশ্বকাপ খেলতে হলে ভারতে গিয়েই খেলতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ডেকে পাঠান আসিফ নজরুল।
তাদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার বৈঠক শেষেও বাংলাদেশের অবস্থান ছিল অনড়। গত ২২ জানুয়ারি আসিফ নজরুল বলেছিলেন, ‘আপনাদেরকে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই, এই যে সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা, এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত।’
বিশ্বকাপ বয়কটের প্রায় তিন সপ্তাহ পর সুর পাল্টালেন আসিফ নজরুল। গতকাল (মঙ্গলবার) আসিফ নজরুল বলেন, ‘কোনো অনুশোচনা, প্রশ্নই আসে না। আমাদের কী সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা, ক্রিকেট বোর্ড। তারা নিজেরা স্যাক্রিফাইস করে দেশের ক্রিকেটের, ক্রিকেটারদের, দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য, বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে যে ভূমিকা রেখেছে … আমার মনে হয় যে একটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
এছাড়া ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে আইসিসির একটি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগও দেওয়া হবে। আসিফ নজরুল বলেন, ‘তারা (বিসিবি) যে ক্রিকেট ডিপ্লোমেসিটা করেছে… আইসিসি বলছে তারা আমাদের কোনো শাস্তি দেবে না বরং একটা বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক আমাদের করবে। এটা দারুণ একটা অর্জন। আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে স্যালুট জানাই। এরকম সিদ্ধান্ত ১০ বার নেওয়ার সুযোগ এলে ১০ বারই নেওয়া উচিত।’