ওয়েব ডেস্ক: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশ করেছে সংগঠনটি। সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি রক্ষার জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্রস্তুত থাকে। কোনো ধরনের ‘ট্রাম্প কার্ড’ খেলে এই কাফেলাকে (ছাত্রশিবির) আর আটকে রাখতে পারবে না।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালিটি রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে দোয়েল চত্বর, টিএসসি হয়ে শাহবাগের শহীদ ওসমান হাদি চত্বরে (সাবেক শাহবাগ মোড়) গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা শিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং জুলাই আন্দোলনে নিহত শহিদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
র্যালি শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শিবিরের বর্তমান সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
সমাবেশে সংগঠনটির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, প্রশাসনের বাহিনী ব্যবহার করে তাদের রক্তাক্ত করা হয়েছে। সব বাহিনী শিবিরের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা সত্ত্বেও বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া পর্যন্ত প্রতি ইঞ্চি মাটিতে শিবিরের আবাদ হয়েছে। দীর্ঘ জুলুম ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে শিবিরের ইমান এবং আকিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, শহীদ ওসমানের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতে চাই, তুমি জীবন দিয়েছ; তোমার রক্তের বদৌলতে লক্ষ ওসমান হাদি জন্ম নিয়েছে। যারা দেখিয়ে দেবে, বাংলাদেশের পতাকাকে কীভাবে শকুনের হাত থেকে রক্ষা করতে হয়।
সাদ্দাম আরও বলেন, এই বাংলাদেশে দীর্ঘ ৫৪ বছর বিভাজনের একটা রাজনীতি তৈরি করে রাখা হয়েছে। জাতির মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এক বিভাজিত রাজনীতি করে এ জাতির অগ্রগতি রোধ করে এ জাতিকে অর্থনৈতিক পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ছাত্রশিবির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ধারণ করে। এ দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটির জন্য যদি কেউ জীবন দিতে প্রস্তুত থাকে সে হলো বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সুতরাং কোনো ট্রাম্প কার্ড খেলে এ কাফেলাকে তোমরা আটকে রাখতে পারবা না।
গণভোট প্রসঙ্গে সাদ্দাম বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দেওয়া মানে আজাদীর পক্ষে রায় দেওয়া, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া, ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, স্বাধীন দুদক, স্বাধীনভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়ে এদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো, রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন হওয়া।
তিনি বলেন, সুতরাং আমরা আগামী নির্বাচনে তাদের জন্য শ্রম দেব, যারা ভারতে গিয়ে পালায়নি, যারা লন্ডনে গিয়ে পালায়নি।
সংগঠনটির সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৭ সালে এই দিনে ইসলামি ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠিত হয়ে আমরা ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পদার্পণ করেছি। এ পথ আমাদের জন্য কণ্টকাকীর্ণ ছিলো। রক্তে ভেজা পথ ছিলো। শাহাদাতের পিচ্ছিল পথ আমাদের পাড়ি দিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, শিবিরের অসংখ্য ভাইকে জীবন দিতে হয়েছে। শত শত ভাইকে গুম করা হয়েছিলো, আয়না ঘরে নির্যাতন করা হয়েছে, অনেক ভাইদের লাশগুলো বাংলাদেশের বিভিন্ন খালে-বিলে, নদীতে পাওয়া গিয়েছিলো। ক্যাম্পাসগুলোতে আমাদের ভাইদের নির্যাতন করা হয়েছিল। তাদেরকে হত্যাযোগ্য করে তোলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা ন্যূনতম পরিচয়টুকু দিতে পারতাম না। এতকিছুর পরও যারা মেধা, শ্রম ও যোগ্যতা দিয়ে এই সংগঠনকে মহীরূহে পরিণত করেছে, তাদের মঙ্গল কামনা করেন তিনি।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের পর ভেবেছিলেন সবাই পরিবর্তন হবে এবং সবার আচরণে পরিবর্তন আসবে। কিন্তু এ জায়গায় এসে তারা হোঁচট খাচ্ছেন। যাদের এতদিন মজলুম হিসেবে আমাদের পাশে দেখেছি, সেই মানুষগুলোর জালেম হওয়ার বহিঃপ্রকাশ তাদের চরিত্রে ফুটে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের পর তাদের অনেক ভাইকে হারাতে হচ্ছে। শহীদ ওসমান হাদি এই শাহবাগে দাঁড়িয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন।
হাদি হত্যার বিচার চেয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যে রক্তের উপর দাঁড়িয়ে তারা ক্ষমতায় আছেন, সেই রক্তের উপর দাঁড়িয়ে শহীদদের খুনিদের বিচার তাদের করতে হবে। তিনি বলেন, সামনে যারা ক্ষমতায় আসার চিন্তা করছেন, শহীদ ওসমান হাদি, রেজাউল করিমসহ সব শহীদদের খুনিদের বিচার তাদের করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যদি কখনো ক্ষমতার কাছাকাছি যায়, সেদিন ওসমান হাদির খুনি পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক, আমরা তার বিচার করবোই।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন– সংগঠনের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ এবং এজিএস মহিউদ্দিন খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।