ফ্যাসিবাদী শিক্ষকদের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি : জবি শিক্ষক সমিতি

ওয়েব ডেস্ক: ফ্যাসিবাদী মানসিকতা ও অপরাধে জড়িত শিক্ষকদের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, ফ্যাসিবাদ আমলের অপরাধীদের বিচার না করলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি পরবর্তীতে আমাদের অপরাধী করে তুলতে পারে। তাই ফ্যাসিবাদী শিক্ষকদের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, রিপোর্ট হাতে পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ ভবনের নিচতলায় শিক্ষক সমিতির লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রইছ উদ্দীন বলেন, অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমাদের মতাদর্শের অনেক শিক্ষক চাকরি, মানসিক চাপ কিংবা ব্যক্তিগত দুর্বলতার কারণে সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকতে পারেননি। তবে ২০১৪ সালের নির্বাচনে মাত্র ১৪ জন সক্রিয় সদস্য থাকা সত্ত্বেও সেক্রেটারি পদে তিনি ১৪৭ ভোট পেয়েছিলাম। এতে বোঝা যায়, তখনও অনেক নীরব সমর্থক ছিলেন, যারা সামনে আসতে পারেননি।

তিনি বলেন, এখন মুক্ত বাতাসের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আমাদের সঙ্গে আসছেন, আমরা তাদের স্বাগত জানাচ্ছি। তবে যদি কেউ অপরাধী হন বা ফ্যাসিবাদী সময়ে কোনো অপরাধে জড়িত থাকেন, তাদের আমরা নেব না। এটা আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে আমরা সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখল হলগুলো উদ্ধার প্রসঙ্গে শিক্ষক সমিতির সভাপতি জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একসময় ১১টি হল থাকলেও বর্তমানে কার্যকরভাবে দুই থেকে তিনটি হল রয়েছে। এর মধ্যে দুইটির কার্যক্রম আংশিকভাবে চলছে।

রইছ উদ্দীন বলেন, এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্যের সঙ্গে নির্বাচনের আগে বৈঠকে হলগুলো উদ্ধারের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। তার নেতৃত্বে হল সংকট নিরসন সম্ভব হবে বলে শিক্ষক সমিতি আশাবাদী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেট বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রস্তাবনা দেওয়া হলেও তা কাঙ্ক্ষিতভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। ভবিষ্যতে প্রশাসনিক পরিবর্তন হলে বাজেট বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তাঁরা মনে করেন। তবে শিক্ষক সমিতি এ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের যে পরিকল্পনা ছিল, তা বাস্তবায়ন হবে না। বর্তমান ক্যাম্পাস অক্ষুণ্ণ রেখে এর পরিসর বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারপ্রধান ও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সব জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ, সংঘাতহীন এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচন। এ ধরনের স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশের ইতিহাসে বিরল। এ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে।

সম্প্রতি খেলার মাঠে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রইছ উদ্দীন বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন স্থিরচিত্র থাকা সত্ত্বেও দ্রুত বিচার না হলে একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ঘটনায় সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর প্রশাসনের সঙ্গে বসে অগ্রগতি জানার চেষ্টা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকে শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব ঘটনায় আপসহীন অবস্থান নিয়ে দ্রুত সুরাহা করা না হলে ভবিষ্যতে আরও সংকট তৈরি হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইমরানুল হকসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি, প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।