ওয়েব ডেস্ক: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে নিজ বসতঘরের রান্নাঘর থেকে আয়েশা (১১) নামে স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনায় অভিযুক্ত আয়েশার চাচাতো চাচা রুবেল ও নিহতের বাবা বাবুল প্যাদাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আদালতে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্তরা।
জানা যায়, দুপুরে চাচা রুবেলকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের বাবার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন রুবেল। পরবর্তীতে, বাবুলকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
জবানবন্দির পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনা সূত্রে পুলিশ জানায়, নিহত আয়েশার মা সৌদি আরবে থাকেন। বাড়িতে তাদের সঙ্গে বসবাস করা দুঃসম্পর্কের আত্মীয়ের সঙ্গে আয়েশা তার বাবাকে অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখতে পান। ঘটনাটি মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে না জানানোর অনুরোধ করেন বাবুল। এরপরই মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। এদিকে বাড়িতে প্রতি বেলায় খাবার খেতে আসতেন তার চাচাতো চাচা রুবেল। রুবেলকে বিভিন্ন সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে নিজ কন্যা আয়েশাকে হত্যার নির্দেশ দেন বাবুল। তার নির্দেশেই আয়েশাকে ধর্ষণ শেষে প্রায় ৭-৮ মিনিট শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন রুবেল। এরপরে বাবা ও চাচা মিলে মরদেহ বস্তায় বন্দী করে গুমের চেষ্টা করে। তারা গুমে ব্যর্থ হয়ে বস্তাটি রান্নাঘরের এক কোণে রেখে দেয়। যা পরে উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, চাচা রুবেলের স্বীকারোক্তির পরিপ্রেক্ষিতে নিহতের বাবাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতে তারা হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাছাড়া প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সব তথ্য প্রমাণও পাওয়া গেছে। বিচারের জন্য বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
উল্লেখ্য, দুদিন নিখোঁজের পর রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাঝনেতা গ্রামের নিজ বসত বাড়ির রান্নাঘর থেকে স্কুলছাত্রী আয়েশা মনির বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।