ওয়েব ডেস্ক: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জুগিরহুদায় ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের জুগিরহুদা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বিএনপির আহত নেতাকর্মীদের দেখতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ছুটে আসেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি বিএনপির সমর্থকরা হলেন- জুগিরহুদা গ্রামের হাসিবুল ইসলামের ছেলে মানিক মিয়া (৩৬), একই গ্রামের মানিকের স্ত্রী মুক্তি খাতুন মুক্তা (৩৫), মতিয়ার রহমানের ছেলে রাকিব (১৯), শামিমের স্ত্রী রিক্তা খাতুন (২৬), মৃত শুকুর আলীর ছেলে হায়দার আলী বিশ্বাস (৬২), বজলুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান (৫৫), মুনছুর আলীর ছেলে আসাদুল হক (৫২), হাফিজুরের মেয়ে রেমনি খাতুন (২০) ও হাসিবুল হক বিশ্বাসের ছেলে আরাফাত আলী (২৪)।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর ৫ জন সমর্থক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেন। তারা হলেন- ওল্টু, মাসুদ, বাদশা, আরিফুল ও ইমরান।
অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, আমাদের কর্মী-সমর্থকরা ভোটের প্রচারণায় ছিল। এ সময় বিএনপির সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছেন চিকিৎক।
কফিল উদ্দিন নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমাদের গ্রাম জুগিরহুদা গ্রামের জয়নালের বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর বেশ কিছু নারী কর্মীরা ভোট চাইতে যান। এ সময় তারা জয়নালের পরিবারের সদস্যদের নিকট বিকাশ নম্বর চান এবং বলেন এই নম্বরে টাকা দেবেন। আর এই টাকায় তোমাদের সংসার চলবে- বলে জানান তারা। এ সময় আমাদের এলাকার লোকজন বিষয়টির প্রতিবাদ করেন। এরপরই একটি কালো মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলযোগে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এসে অতর্কিত হামলা চালায়।
আহত মুক্তি খাতুন মুক্তা বলেন, আমরা আমাদের রাইস মিলের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় জামায়াতের একের পর এক লোক এসেই যাচ্ছে। পরে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস এসে গ্রামের ব্রিজের ওপর দাঁড়াল। এরপরই লাঠিসোঁঠা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে। এতে ইটের আঘাতে আমি আহত হই।
আহত আরেক নারী রেমনি খাতুন বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা গ্রামের সবার বাড়িতে গিয়ে ভোট চাচ্ছিল। এ সময় তারা বিকাশ নম্বর চাইছিল, তারা বলছিল জামায়াতের ইসলামীর ভোট দিলে জান্নাতে চলে যাবেন। তারা এসব কথা বলায় আমরা প্রতিবাদ করলে উলটো আমাদের ওপর রাগান্বিত হয়। পরে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে তারা।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আফরিনা ইসলাম বলেন, বিকেল আনুমানিক ৫টার পর আহত অবস্থায় নয়জন জরুরি বিভাগে আসেন। তাদের প্রত্যেকের শরীরে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ধানের শীষের সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, খবর পেয়ে আমি আমার নেতাকর্মীদের দেখতে হাসপাতালে এসেছি। মূলত পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় আমাদের নারী কর্মীসহ নয়জন নেতাকর্মীকে ব্যাপক মারধর করেছে। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে জেনেছি। এর থেকে বেশি কিছু আমি জানি না।
এ বিষয়ে জানতে আলমডাঙ্গা থানার ওসি মো. বানী ইসরাইল বলেন, ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।