ওয়েব ডেস্ক: জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনীত প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মণ্ডল। প্রবাস ফেরত সাবেক এই সংসদ সদস্যের নগদ অর্থের পরিমাণ এক কোটি ৩৮ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৪ টাকা। তবে ব্যাংকে জমা রয়েছে মাত্র তিন হাজার ১২ টাকা। তার ব্যবহৃত জিপ গাড়ির মূল্য সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। রয়েছে একটি বাণিজ্যিক ভবন ও একটি বাড়ি। যার মোট অর্জনকালীন মূল্য আট কোটি ৪৭ লাখ ৭৮ হাজার ৩৩০ টাকা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। আনিছুল ইসলাম মণ্ডল রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচন করবেন।
এ আসনে আয় ও সম্পদে আনিছুল ইসলাম মণ্ডলের পরের অবস্থান সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকারের। সেইসঙ্গে নগদ অর্থের দিক থেকেও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলামের চেয়ে এগিয়ে আছেন এই দুই প্রার্থী।
হলফনামার তথ্যমতে, এটিএম আজহারুল ইসলাম কৃষিখাত থেকে বছরে ৩০ হাজার টাকা ও নিজ দল থেকে ভাতা হিসেবে ৫৫ হাজার টাকা আয় করেন। এছাড়া ইবনে সিনায় ১০ টাকা মূল্যের ৪৭৬টি শেয়ারের দাম চার হাজার ৭৬০ টাকা উল্লেখ করলেও আয়ের পরিমাণ উল্লেখ নেই।
স্থাবর সম্পদ হিসেবে এটিএম আজহারুল ইসলামের চার বিঘা কৃষি জমি, অকৃষি জমি ১০ শতক, বদরগঞ্জের বালুয়াঘাটে একটি টিনশেড এবং অপর একটি টিনশেড বাড়ি (জায়গার নাম উল্লেখ নেই) রয়েছে। সব মিলিয়ে যার বর্তমান মূল্য এক কোটি ২০ লাখ টাকা। তবে সবশেষ ২০২৫ সালে আয়কর রিটার্নে তিনি এক লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৬ টাকা আয় দেখিয়েছেন।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে এটিএম আজহারুল ইসলামের নগদ ৪৫ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ৯ লাখ ১৩ হাজার ২৮৬ টাকা, ইবনে সিনায় ৪৭৬টি শেয়ারের বর্তমান মূল্য এক লাখ ৪৮ হাজার ৯৪০ টাকা, ৪৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া চার বিঘা কৃষিজমি উল্লেখ করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ এই নেতার নামে ১৬টি ফৌজদারি মামলা ছিল বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালে ২২ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পতিত শেখ হাসিনার সরকার। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এর বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এরপর ওই রায় রিভিউ চেয়ে ২০২০ সালের ১৯ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রিভিউ শুনানি শেষে গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি এটিএম আজহারুল ইসলামকে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২৮ মে উচ্চ আদালতের রায়ে মৃত্যুর মুখ থেকে খালাস পেয়ে মুক্ত হন তিনি।
২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। সেইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মণ্ডল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম।
এবার এই আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মণ্ডল তার হলফনামায় আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবসা থেকে বছরে ১৬ লাখ ৩২ হাজার ১৪০ টাকা দেখিয়েছেন। এছাড়া তার রয়েছে ১৬ হাজার টাকার শেয়ার, ৫০ ভরি সোনা, ৭৫ হাজার টাকার ইলেক্ট্রিক পণ্য ও ৬৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র। নিজের এবং পরিবারের কোনো সদস্যের দায় ও ঋণ নেই।
এছাড়া, তার স্থাবর সম্পদ হিসেবে ১১ দশমিক ৮৫ একর কৃষিজমি, ২ দশমিক ৮২ একর অকৃষি জমি। ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর আয়কর রিটার্নে আয়ের পরিমাণ ১৬ লাখ ৩২ হাজার ১৪০ টাকা ও সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ৯০ লাখ ২৬ হাজার ২২৮ টাকা উল্লেখ করেছেন জাতীয় পার্টির এই প্রার্থী।
অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার পেশা হিসেবে কৃষি ও ব্যবসা উল্লেখ করলেও কৃষিখাত থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১০ লাখ টাকা।
স্থাবর সম্পদ হিসেবে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ১৫ একর কৃষিজমি, বাড়ি ও মৎস্য খামারের বর্তমান মূল্য দুই কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে ৪৭ শতক কৃষি জমি, যার বর্তমান মূল্য ৫ লাখ টাকা উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া নির্ভরশীল হিসেবে ছেলের নামে ৩৭ শতক, মেয়ের নামে ৩৫ ও নিজের ৯৭ শতাংশ কৃষি জমি উল্লেখ করলেও হলফনামায় এই সম্পদের মূল্য উল্লেখ করেননি।
অস্থাবর সম্পদ হিসেবে তার নগদ আছে তিন লাখ টাকা, ব্যাংকে জমা আছে দুই হাজার, একটি মাইক্রোবাসসহ তার বর্তমান অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২৬ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। আর স্ত্রীর নামে ১০ লাখ টাকার ডিপোজিট ও ২১ ভরি সোনার বর্তমান দাম ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ছেলের এক লাখ টাকার একটি মোটরসাইকেল রয়েছে।
সবশেষ আয়কর রিটার্নে নিজের সম্পদের পরিমাণ ৫২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৯৯ টাকা উল্লেখ করেছেন। আয়কর দিয়েছেন তিন হাজার টাকা। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের কোনো দায় ও ঋণ নেই।
মোহাম্মদ আলী সরকার ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে বিএনপিতে যোগ দেন।
জেলার বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে রংপুর-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬২৫ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯২ হাজার ২৮৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন।
এ আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার, জাতীয় পার্টির আনিছুল ইসলাম মণ্ডল, জামায়াতে ইসলামীর এটিএম আজহারুল ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির মো. আজিজুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আশরাফ আলীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।