ওয়েব ডেস্ক: শীত মৌসুমের শুরুতেই নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রে মাছের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন সারি সারি মাছ ধরার ট্রলার ঘাটে ভিড়লেও পর্যাপ্ত মাছ না থাকায় আড়তে উঠছে খুবই অল্প পরিমাণ মাছ। এতে জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা চরম হতাশার মধ্যে পড়েছেন।
জেলেরা জানান, ১৫ থেকে ২০ দিন সমুদ্রে অবস্থান করেও তারা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মাছ পাচ্ছেন না। অল্প পরিমাণে লইট্টা, পোয়া, ইলিশ ও কোরাল ধরা পড়লেও তা দিয়ে লোকসান পোষানো সম্ভব হচ্ছে না। সমুদ্রে মাছের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট দ্রুত কাটবে-এই আশায় দিন গুনছেন উপকূলীয় এলাকার হাজারো জেলে ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ মাছের আড়তই বন্ধ। যেগুলো খোলা রয়েছে, সেখানেও স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যের অভাব স্পষ্ট। মাছ না থাকায় শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। ঘাটজুড়ে নেই চেনা মাছের হাকডাক কিংবা ক্রেতা-বিক্রেতার কোলাহল। কেউ যদি সামান্য কিছু মাছ পান, তখনই তা ঘিরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ভিড় জমে। তবে মাছের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই ইচ্ছা থাকলেও মাছ কিনতে পারছেন না। ফলে পুরো ঘাটজুড়ে এক ধরনের স্থবিরতা ও হতাশা বিরাজ করছে।
জেলে আলাউদ্দিন বলেন, নদী ও সাগরে এখন মাছ প্রায় নেই বললেই চলে। আগে যেখানে ১০ দিন সমুদ্রে থাকলেই কিছু না কিছু মাছ পাওয়া যেত, এখন সেখানে ১৫ দিন, এমনকি তারও বেশি সময় অবস্থান করেও কাঙ্ক্ষিত মাছ মিলছে না। এতে জ্বালানি, খাবার ও শ্রমিকের খরচ উঠছে না। দিন দিন ঋণের বোঝা বাড়ছে, পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় আছি।
আরেক মাঝি মো. নবির হোসেন বলেন, যে পরিমাণ খাবার ও মালামাল নিয়ে সমুদ্রে যাই, তার ১০ ভাগের এক ভাগ মাছও পাই না। সবাই ঋণের বোঝায় জর্জরিত। অনেক মাঝি ও জেলে ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছে। সাগরের কাছে থেকেও আমরা মাছের কাছে অসহায়।
মাছ ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের অভিযোগ করছেন। বেপারি ইকবাল হোসেন বলেন, জেলেরা মাছ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে আসছে। আমরা আড়তে বসে থাকি, কিন্তু মাছ নেই। যা আসে, তাও আকারে ছোট। সব মিলিয়ে ইলিশের তীব্র আকাল চলছে।
আড়তদার মো. আকবর হোসেন বলেন, নদী ও সাগরে মাছ না থাকায় জেলে ও ব্যবসায়ী-সবাই দেউলিয়ার পথে। অনেকে দোকান বন্ধ করে অন্য পেশায় চলে গেছে। গত দুই বছর শীত মৌসুমে মাছ একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। আগে বর্ষা মৌসুমে কিছু মাছ পাওয়া যেত, এখন সেটাও হচ্ছে না। পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, শীতকালে পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় মাছের উৎপাদন হ্রাস পায়। মাছের উৎপাদন বাড়াতে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য জালসহ অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি, এসব উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে মাছের পরিমাণ বাড়বে এবং জেলেরা লাভবান হবেন।