ওয়েব ডেস্ক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে নির্বাচনি সফরে যাচ্ছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি এই দুই জেলার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনসভায় অংশ নেবেন তিনি। এসব জনসভাকে ঘিরে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রচার-প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম।
জামায়াত নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম ও পর্যটন জেলা কক্সবাজারে ডা. শফিকুর রহমান নানা পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। তার বক্তব্য দুই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি ও সম্ভাবনাকে একসূত্রে গাঁথবে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে জনসভাকে ঘিরে নেতাকর্মীরা আশা করছেন, চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের বন্দর উন্নয়ন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। আবার কক্সবাজারের ক্ষেত্রে পর্যটনবান্ধব পরিকল্পনা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির রূপরেখা স্পষ্ট হবে।
নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফরের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের ধারণা আরও পরিষ্কারভাবে মানুষের সামনে আসবে। পাঁচটি জনসভা মিলিয়ে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ মানুষের সমাগমের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারজুড়ে পথসভা, গণমিছিল, মাইকিং ও লিফলেট বিতরণসহ ব্যাপক সাংগঠনিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
জনসভাগুলো ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা, দায়িত্ব বণ্টন ও স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠনের মাধ্যমে শৃঙ্খলাপূর্ণ জনসমাগম নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বিপুল জনসমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, সম্ভাব্য উন্নয়ন বার্তার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে জামায়াত আমিরের এই সফর রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনি সফর শুরু হবে। এদিন সকাল ১০টায় কক্সবাজার শহরের বাহারছড়াস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে মহেশখালীতে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন জামায়াতের আমির ডা.শফিকুর রহমান।
এরপর চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পদুয়ায় দুপুর ১২টায়, সীতাকুণ্ডে দুপুর ২টায় এবং সর্বশেষ চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তিনি। প্রতিটি জনসভায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতির টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে।
জানতে চাইলে জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম জোনের প্রধান মুহাম্মদ শাহজাহান ঢাকা পোস্টকে বলেন, পাঁচটি জনসভা মিলিয়ে অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ লাখ মানুষের সমাগম হবে। এই সফরের মূল লক্ষ্য ৫৪ বছরের পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করে একটি নতুন, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থায় দেশকে নিয়ে যাওয়া। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের রূপরেখা জনগণের সামনে তুলে ধরবেন জামায়াতের আমির। পাশাপাশি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানাবেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি এলাকার জন্য ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে থাকবে আলাদা আলাদা বার্তা। কক্সবাজারের জন্য পর্যটনবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের কথা গুরুত্ব পাবে। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা, বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগরী গঠনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন তিনি। ডা. শফিক প্রতিটি সফরের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নাগরিক সমস্যাগুলো নিয়ে গভীরভাবে অধ্যয়ন করেন। ফলে তার বক্তব্যে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা ও দাবিগুলো স্পষ্টভাবে উঠে আসবে।
এদিকে, জনসমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সমাবেশস্থলগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও মাঠে থাকবেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, জনসমাগম বিবেচনায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরে একটি বড় জনসভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। মঞ্চ ও আনুষঙ্গিক সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, চট্টগ্রাম মহানগরে মাগরিবের পর জামায়াতের আমির তার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, স্মরণকালের বড় জনসভা লোহাগাড়ার পদুয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে আমিরে জামায়াত জামায়াত দক্ষিণ জেলার বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে করণীয় তুলে ধরবেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণের নিয়ে তিনি বার্তা দেবেন।