ওয়েব ডেস্ক: রাজধানীর কড়াইলের বস্তিতে বড়ো বড়ো ভবন করে তাতে ছোট ছোট ফ্ল্যাট করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির চেয়ারম্যানের এই প্রতিশ্রুতি সমালোচনা করেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় থেকে ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির এই প্রার্থী শাপলা কলি প্রতীক পেয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই অভিযোগ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছেন। তিনি কড়াইলের বস্তিতে ফ্ল্যাট করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এটা তিনি করতে পারেন না। এটাতো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে নিশ্চুপ, কোনো কথা বলছে না। তাহলে প্রশাসন ও বিএনপি একসঙ্গে কাজ করবে? তারেক রহমানের বেলায় এক নীতি, অন্যদের বেলায় আরেক নীতি।
এ সময় বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডসহ নানা প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করেন তিনি। বর্তমান নির্বাচন কমিশন হুদা-রাকিব কমিশনের দিকে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
বিএনপির পক্ষে অনেক মিডিয়া কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, মিডিয়া দখল করা হয়েছে। মিডিয়া অনেক দখল করবেন, করছেন। অনেক মিডিয়া বিএনপির পক্ষে কাজ করছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমি শাপলা কলি প্রতীক পেয়েছি। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আমরা এই প্রতীক পেয়েছি। প্রতীক পাওয়ার ক্ষেত্রে ইসি আমাদের সঙ্গে অনেক বৈষম্য করেছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা শুরুর তথ্য জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি জানান, ওসমান হাদীর কবর জিয়ারতের মাধ্যমে কাল থেকে প্রচারণা শুরু করব। ওসমান হাদির বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। বর্তমানে যারা প্রশাসনে রয়েছেন, তাদের বলব- ওসমান হাদির বিচার করুন।
তিনি বলেন, আমার যে নির্বাচনী এজেন্ডা সেখানে ওসমান হাদির বিচার চাওয়া থাকবে। এ ছাড়া, চাঁদাবাজি ও দখলদারের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলমান থাকবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আজকে এখানে যিনি রিটার্নিং কর্মকর্তা রয়েছেন ওনার কাছে আমি একটা প্রশ্ন তুলেছিলাম, আপনি জানেন যে ঢাকা-১৭ আসনে তিন মাস আগে কড়াইল বস্তিতে আগুন লেগেছিল। তারেক রহমান গতকাল সেখানে গিয়ে বলেছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে ফ্ল্যাট নির্মাণ করে দেবেন, এটা নির্বাচনী যে আইন রয়েছে এবং নির্বাচনের যে বিধান রয়েছে সেটার সরাসরি লঙ্ঘন।
তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, নাহিদ ইসলামকে শোকজ দেওয়া হয় কিন্তু তারেক রহমান গতকাল যখন সরাসরি এই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেড়াচ্ছেন আমরা মনে করি নির্বাচন কমিশন এখানে নিশ্চুপ থেকেছেন এবং প্রশাসন একদিকে হেলে যাচ্ছে। এখানে বৈষম্যমূলক নীতি হচ্ছে অর্থাৎ তারেক রহমানের বেলায় এক নীতি আর অন্যান্য প্রার্থীদের বেলায় এক নীতি।
তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, আমরা অনুরোধ করব বাংলাদেশে তারেক রহমান এসেছেন, তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের ছেলে, বেগম জিয়ার ছেলে এবং ওনারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। ওনারা বাংলাদেশের মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। প্লিজ, আপনি এমন কাজ করবেন না যার দ্বারা বাংলাদেশের একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আপনি বাধা হয়ে দাঁড়াবেন বা আপনি এমন কাজ কইরেন না যেটাতে সুষ্ঠু নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমাকেও শোকজ করা হয়েছে গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ ক্যাম্পেইন করার জন্য; আমি যখন একটি ব্যানার লাগিয়েছি তারা আমাকে শোকজ করেছিল এবং সেই ব্যানারে কোনো প্রতীক ছিল না এবং সেই ব্যানারটা সিটি কর্পোরেশনের লোক বিএনপির লোক ম্যাজিস্ট্রেট একসঙ্গে গিয়ে সেটা তুলেছে। আমাদের প্রশ্ন প্রশাসন এবং বিএনপি একসঙ্গে কি এখানে কাজ করবে যদি করে থাকে তাহলে ঢাকা আটের সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা বিধানটা করবে কে?
তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহ যাবৎ প্রত্যেকটা ফ্ল্যাটে গিয়ে লিফলেট দিয়ে, ফেসবুকে অসংখ্য স্ট্যাটাস আছে মির্জা ভাইয়ের পক্ষের লোক ডিরেক্টলি ধানের শীষে ভোট চেয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখানে অন্ধ থেকেছে এবং তারা মনে করে যে মির্জা আব্বাস ভাইয়ের বিরুদ্ধে কিছু বললে তাদের চাকরি থাকবে না। চাকরি না থাকলে আপনি চেয়ারে বসছেন কেন? আমরা এমন পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছি নির্বাচন কমিশন আগের রকিব এবং হুদা যে কমিশন ছিল ওই দিকে যাচ্ছে।
এদিন, ঢাকা- ৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পান। মির্জা আব্বাসের পক্ষে প্রতীক সংগ্রহ করেন তার একজন উপদেষ্টা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় শেষে বুধবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রতীক পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন প্রার্থীরা।
ইসির ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে পৃথক ব্যালটে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।