ওয়েব ডেস্ক: ইসলামী বর্ষপঞ্জির অষ্টম মাস শাবানের মধ্যরাত মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এই রাত শবে বরাত নামে পরিচিত। ফারসি শব্দ ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি বা অব্যাহতি। অর্থাৎ শবে বরাত হলো ক্ষমা ও মুক্তির রাত। এ রাতে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় গুনাহ মাফ ও ভাগ্যের উত্তম পরিবর্তনের জন্য আকুল হয়ে ওঠে।
হাদিস শরিফে এসেছে, শাবানের পনেরো তারিখের রাতে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং সূর্যাস্তের পর থেকে ফজর পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাকেন—কে আছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। কে আছে রিজিক প্রার্থনাকারী? আমি তাকে রিজিক দান করব।
এই ঘোষণা বান্দার জন্য এক অপার সুযোগের দরজা খুলে দেয়। তাই এই রাতকে গাফলতে না কাটিয়ে বরং ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার রাত হিসেবে কাটানো উচিত।
শবে বরাতকে ক্ষমা ও মুক্তির রাত বলা হলেও এ ক্ষমা সবার জন্য একরকম নয়। হাদিসে উল্লেখ আছে, কিছু শ্রেণির মানুষ এই রাতে আল্লাহর বিশেষ ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকে। যেমন মুশরিক, হিংসাপোষণকারী, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী এবং অহংকারী ব্যক্তি। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, শবে বরাতের ক্ষমা লাভের জন্য অন্তরের পরিচ্ছন্নতা ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের শুদ্ধতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই রাতের অন্যতম শিক্ষা হলো আত্মসমালোচনা। গত এক বছরে করা ভুল, অবহেলা ও গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে সেগুলো থেকে দূরে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার করাই শবে বরাতের মূল চেতনা। শুধু নফল নামাজ বা নির্দিষ্ট কিছু আমলের মধ্যেই এই রাতের তাৎপর্য সীমাবদ্ধ নয়; বরং অন্তর পরিবর্তনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই আসল উদ্দেশ্য।
শবে বরাত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আল্লাহর রহমত নিরাশার চেয়েও বড়। যত বড়ই গুনাহ হোক, আন্তরিক তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করতে প্রস্তুত। এই রাত তাই হতাশ হৃদয়ের জন্য আশার আলো, পাপী বান্দার জন্য ফিরে আসার সুবর্ণ সুযোগ।
অতএব, শবে বরাতকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক রাত হিসেবে নয়, বরং ক্ষমা, মুক্তি ও আত্মসংযমের এক গভীর উপলক্ষ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। আল্লাহর দরবারে বিনীত হয়ে হাত তুললে এবং সত্যিকার অর্থে নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা করলে এই রাত হতে পারে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার এক বরকতময় মুহূর্ত।