Tag: চলাচল

  • যানবাহন চলাচলের জন্য চালু হলো টিটিপাড়া আন্ডারপাস

    যানবাহন চলাচলের জন্য চালু হলো টিটিপাড়া আন্ডারপাস

    ওয়েব ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর টিটিপাড়া আন্ডারপাস সব ধরনের যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

    সকালে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন পরিদর্শনে গিয়ে এটি চালু করার নির্দেশ দেন।

    একপাশে অতীশ দীপঙ্কর রোড, আরেক পাশে কমলাপুর আউটার সার্কুলার রোড— মাঝখানে এই টিটিপাড়ার লেভেল ক্রসিং। সড়কপথের যানবাহন ও ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে লেভেল ক্রসিংটিকে আন্ডারপাসে রূপান্তর করা হয়। এ কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল রাজধানীর ব্যস্ত এই সংযোগপথ। ফলে অফিসগামী, শিক্ষার্থী এবং শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতকারী লাখো মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

    পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় প্রায় দুই বছরের কর্মযজ্ঞ শেষে তৈরি হয়েছে এই আন্ডারপাস। নিচ দিয়ে ছয় লেনের সড়কের মধ্যে চার লেন থাকবে যান্ত্রিক যানবাহনের জন্য। পাঁচ মিটার উচ্চতার গাড়ি নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে এই পথে। দুই পাশে রিকশা ও সাইকেলের জন্য আলাদা লেনের পাশাপাশি পথচারীদের জন্য রাখা হয়েছে প্রশস্ত ফুটপাত।

    প্যাডেলচালিত যানবাহনের জন্য ঢাল কম রাখতে দুই পাশের লেন মাঝের চার লেনের তুলনায় কিছুটা উঁচু করা হয়েছে। এখন ওপরে ট্রেন আর নিচে অন্যান্য যানবাহনের চলাচল হবে বাধাহীনভাবে। রোড মার্কিং, মাঝের ডিভাইডারে ফুলের গাছ, সড়কের দুই পাশে ল্যাম্পপোস্ট— সব মিলিয়ে আন্ডারপাসটি এখন চোখে পড়ার মতো সৌন্দর্য পেয়েছে।

    পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ জামিউল ইসলাম বলেন, আমাদের সমস্যা ছিল স্পেস লিমিটেশন। ডান পাশে কমলাপুর আইসিটি কর্তৃপক্ষের কিছু জায়গা আমরা পেয়েছিলাম, কিন্তু এর বাইরে আর জায়গা উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে এখানে কোনো বাইপাস নির্মাণ করাও সম্ভব ছিল না। এছাড়া আন্ডারপাসের গভীরতাও অনেক বেশি। তাই সামান্য বাইপাস রোড করলেও সেটা জনসাধারণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যেত।

    তিনি আরও বলেন, স্থাপনাটির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। রক্ষণাবেক্ষণ শুধু একক কোনো গোষ্ঠীর নয়, বরং একাধিক স্টেকহোল্ডারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে পাম্প হাউসটি যাতে দুর্যোগকালেও সঠিকভাবে কাজ করে তা নিশ্চিত করতে রেলওয়েকে দায়িত্ব নিতে হবে।

    মূল সড়ক থেকে ১১ মিটার নিচ দিয়ে তৈরি এই আন্ডারপাসে বর্ষাকালে যেন পানি না জমে— এমন আধুনিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    প্রকল্পের প্রকৌশলী নীলাকর বিশ্বাস বলেন, টিটিপাড়া আন্ডারপাসের জন্য আলাদা একটি ‘রেইনওয়াটার পাম্প ওয়েল’ স্থাপন করা হয়েছে। আন্ডারপাসের সব পানি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই ওয়েলে যাবে, যেখানে ৭৫ কিলোওয়াটের চারটি পাম্প রয়েছে। পানির স্তর অনুযায়ী পাম্পগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে পানি পার্শ্ববর্তী সিটি কর্পোরেশনের ক্যানেলে পাঠিয়ে দেবে।

    বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজকে আমাদের উপদেষ্টা মহোদয়ের বিশেষ সহকারী এসেছেন। উনি দেখে গেছেন এবং বলেছেন এটি খুলে দেওয়ার জন্য। এর জন্য কোনো আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই বলে উনি জানিয়েছেন। এটি ইতোমধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

  • ফাঁকা ঢাকায় চলাচলে স্বস্তি, নেই চিরচেনা যানজট

    ফাঁকা ঢাকায় চলাচলে স্বস্তি, নেই চিরচেনা যানজট

    ওয়েব ডেস্ক: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলে ফাঁকা হয়ে গেছে ব্যস্ত শহর ঢাকা। দুর্গাপূজা শেষ হলেও আজও রাজধানীতে নেই চিরচেনা যানজট। চলাচলে ফিরেছে স্বস্তি। বাসেও নেই যাত্রীর চাপ, বাধাহীনভাবে গন্তব্যে ছুঁটে চলছে অটোরিকশা। 

    শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

    ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতেও ছিল একই চিত্র। রাজধানীর শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, শাহবাগ, মৎস্যভবন, প্রেসক্লাব, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটরসহ সব জায়গাতেই ছুটির স্পষ্ট প্রভাব রয়েছে।

    যত্রতত্র গাড়ির সারি নেই, ট্রাফিক সিগন্যালে থেমে থাকার চাপ নেই, পথচারীদের ভিড়ও কম। বাসেগুলোতে যাত্রীর চাপ ছিল না। ফাঁকা সিট নিয়ে বাসগুলোকে স্ট্যান্ড ছাড়তে দেখা যায়।

    মিরপুর-নিউ মার্কেট সড়কের ঠিকানা বাসের চালক আমজাদ হোসেন বলেন, গত দুই তিন ধরে যাত্রীর চাপ কম ছিল। ঢাকায় যাত্রী চাপ নেই। গতকালের তুলনায় আজ যাত্রী আরো কম। পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলে অনেকে ঢাকার বাইরে চলে গেছে। ঢাকা ফাঁকা হয়ে গেছে। যে রাস্তা দুই ঘণ্টা লাগতো, তা ৩০ মিনিটে চলে আসছি।

    সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানী ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে আজ তেমন চাপ নেই। কোথাও দাঁড়াতে দেখা যায়নি। ম্যানুয়ালভাবে পরিচালিত ট্রাফিক সিগন্যালগুলো অনেকটাই ফাঁকা। ট্রাফিক পুলিশ স্বস্তিতে সড়কে পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। তবে বিজয় স্মরণীসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল চলতে দেখা যায়। কিন্তু সিগন্যালের কারণে তেমন যানজটও দেখা যায়নি।

    অটোরিকশা চালক মতিন বলেন, যানজটও নেই, যাত্রীও নেই। জুম্মার দিনে মানুষ বাহির হয় কম। আমরা বাহির না হলে খামু কী? আজকে অনেকটাই ঢাকা ফাঁকা।

    যাত্রীরা জানান, বিভিন্ন সড়ক, টার্মিনাল, বাজার, এমনকি জনবহুল এলাকাগুলোতেও নেই সেই চিরচেনা ভিড়। শহরের গণপরিবহনগুলোতে যাত্রী সংখ্যা খুবই কম, অধিকাংশ বাসেই যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

    আবুল হোসেন নামে বাসের এক যাত্রী বলেন, আজ বাসে তেমন ভিড় ছিল না, তবে যাত্রীর জন্য প্রতিটি স্টপেজে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। কারণ, রাস্তায় যাত্রী নেই বললেই চলে। যাত্রী তুলতে বাসও অপেক্ষা করছে। আগে যাত্রী বাসের জন্য অপেক্ষা করতো, আজকে বাস যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছে।

    ঢাকার ধানমন্ডি সাত মসজিদ সড়কটি সব সময় ব্যস্তময় সড়ক। সেখানে অনেক নামিদামি রেস্তোরাঁ রয়েছে। রয়েছে হাসপাতালেও। সেই ব্যস্ত সড়কেও আজ ফাঁকা দেখা গেছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর ধানমন্ডি সাত মসজিদ সড়কে আজ তেমন যাত্রী ছিল না। বাসের তেমন যাত্রীর চাপ ছিল না। সড়কে শুধু অটোরিকশার দাপট দেখা গেছে।  যাত্রীরা অটোরিকশা করে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।

    মোহাম্মদপুরের অটোরিকশা চালক জলিল মিয়া বলেন, আজ সকাল থেকে রাস্তা ফাঁকা দেখেছি। যানজট তো একেবারেই নেই। ঈদের সময় শুধু এমন খালি রাস্তা দেখা যায়। যাত্রী কম থাকায় তেমন ভাড়াও পাওয়া যায়নি।

  • ভাঙ্গায় অবরোধের তৃতীয় দিনে থমথমে অবস্থা, যান চলাচল স্বাভাবিক

    ভাঙ্গায় অবরোধের তৃতীয় দিনে থমথমে অবস্থা, যান চলাচল স্বাভাবিক

    ওয়েব ডেস্ক: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে ডাকা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচির তৃতীয় দিন আজ মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর)। সকাল থেকেই ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-খুলনা  মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সকাল ৯টার দিকে পুখুরিয়া এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে আসেন কয়েকজন স্থানীয় জনতা। তখনই  পুলিশ তাদেরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। ফলে তারা সড়ক অবরোধ করতে পারেনি।

    প্রস্তাবিত ভাঙ্গা রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক(এসআই) সাফুর আহমেদ বলেন, আমাদের রেলপথ ক্লিয়ার আছে। সকাল থেকে কোনো প্রতিবন্ধকতার খবর পাওয়া যায়নি।

    তিনি বলেন, সকালে ভাঙ্গা হয়ে খুলনা থেকে নকশিকাঁথা কমিউটার ও জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ঢাকায় গেছে এবং সুন্দরবন এক্সপ্রেস খুলনা গেছে।

    ভাঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং জনসাধারণ অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার না হন। এজন্য পুলিশ মাঠে আছে। তবে পুকুরিয়াতে স্থানীয়রা মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আমরা তাদেরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়েছি। ফলে ঢাকা-বরিশাল ও খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

    তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আন্দোলনকারী জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না। তাদের ভাষায়- এটি ন্যায্য আন্দোলন, কেউ যেন ফ্যাসিস্ট বা অন্য কোনো রং না মাখায়।

    তারা বলেন, এ আন্দোলন আমাদের প্রাণের দাবি, শিকড়, আবেগ আর অস্তিত্বের প্রশ্ন। প্রশাসন যদি মনে করে আমরা চুপচাপ মেনে নেব- তাহলে ভুল করছে।

    তারা আরও বলেন, আমরা জানি আন্দোলন মানে ভোগান্তি। কিন্তু ভাঙ্গা রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস নেই। রাস্তায় বসতে হলে, বসবো। প্রয়োজনে রাত কাটাবো মহাসড়কে। আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ, কিন্তু অবিচার হলে প্রতিবাদ করবই। আলগী আর হামিরদী ভাঙ্গার ছিল, ভাঙ্গারই থাকবে— এটাই আমাদের শেষ কথা।

    এদিকে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, হামিরদী ও আলগী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ, পুকুরিয়া, সুয়াদী এলাকার মহাসড়কে সংলগ্ন বাজার ও দোকানপাটগুলো কম খুলেছে। সবার মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও ভয় কাজ করছে। এই এলাকার লোকজনও গতকাল রাতে নিজের ঘরে ঘুমায়নি। আশপাশের এলাকার বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে রাত্রিযাপন করেছে পুলিশের ভয়ে।

    প্রসঙ্গত, আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে কেটে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করে নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের প্রতিবাদে গত রোববার থেকে টানা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে স্থানীয় জনতা।

  • অনুরোধেও সাড়া নেই, আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালাতে ‘অনীহা’ ভারতের

    অনুরোধেও সাড়া নেই, আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালাতে ‘অনীহা’ ভারতের

    ওয়েব ডেস্ক: কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে দীর্ঘ ২৭ দিন বন্ধ থাকার পর কয়েকদিন আগে দেশে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। তবে এখনো চালু হয়নি আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল। ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ ভারতের রেলপথে যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন রেলপথে পণ্য আমদানিকারক ও সাধারণ যাত্রীরা।

    রেলভবন সূত্রে জানা গেছে, আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালানোর বিষয়ে ভারতের সঙ্গে নিয়মিত যোগযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মিলছে না। ফলে আন্তঃদেশীয় ট্রেন কবে চালু হবে, সে বিষয়ে কিছু বলতে পারছে না বাংলাদেশ রেলওয়ে।

    বাংলাদেশে যে পরিমাণ পণ্য ভারত থেকে আমদানি করা হয়, তার অর্ধেক পণ্য রেলপথ দিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে আমদানি হয়। রেলপথে বাংলাদেশে আসে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, শিল্পকারখানার কাঁচামাল, সার, সিমেন্ট তৈরির উপকরণ ও কৃষি যন্ত্রাংশ।

    এ ছাড়া, বাংলাদেশের বেনাপোল ও চিলাহাটী স্থলবন্দর দিয়ে তিনটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেস বোনাপোল ও মিতালী এক্সপ্রেস চিলাহাটী রুট ব্যবহার করে। এই তিনটি ট্রেন বন্ধ থাকায় যাত্রীদের নিরাপদে ভারত যাওয়া ব্যাহত হচ্ছে। যেসব যাত্রীরা ট্রেনে ভারতে যাওয়ার জন্য অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন, তাদের টিকিটের টাকা ফেরত দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আপাতত নতুন করে আর কোনো আন্তঃদেশীয় ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে না।

    বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আন্তঃদেশীয় মিতালি এক্সপ্রেস ট্রেনের ভারতীয় রেক ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে রাখা আছে। এছাড়া আরও যেসব ভারতীয় পণ্যবাহী ওয়াগন বাংলাদেশে এসেছিল, পণ্য খালাস শেষে সেগুলো বাংলাদেশেই আছে। এসব খালি ওয়াগন নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলেও সাড়া দিচ্ছে না প্রতিবেশী দেশটি।

    বাংলাদেশ রেলওয়ের আরেকটি সূত্র ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছে, বাংলাদেশি আমদানিকারকদের পণ্যবোঝাই ওয়াগন ভারত সীমান্তে আছে। কিন্তু অনুমতি না থাকায় সেগুলো দেশে আনা যাচ্ছে না। এর মধ্যে থাকা কাঁচাপণ্যগুলো হয়ত ইতোমধ্যে পচে গেছে।

    বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহ-সভাপতি উজ্জ্বল বিশ্বাস জানিয়েছেন, ভারত থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি হতো তার অর্ধেক হতো রেলপথে। কিন্তু রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বন্দরে আমদানির পরিমাণ কমে গেছে।

    বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুজিবর রহমান জানিয়েছেন, ভারত থেকে রেলপথে বেশিরভাগ শিল্পকারখানার জরুরি কাঁচামাল ও কৃষিপণ্য আমদানি হয়ে থাকে। কিন্তু তা বন্ধ থাকায় স্থানীয় শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

    দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনের ম্যানেজার মির্জা কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঠিক কী কারণে ওয়াগন পাঠানো হচ্ছে না, তা জানা যায়নি। বন্দরের শ্রমিক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, কর্মচারী ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ট্রাকের চালক ও সহকারীরা বেকার বসে আছেন।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী বলেন, ভারতের এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স থেকে এখন পর্যন্ত ট্রেন চালানোর বিষয়ে অনুমতি দেওয়া হয়নি। ভারতীয় মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন এই মুহূর্তে বাংলাদেশে আছে। বর্তমানে কমলাপুরে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া, আমাদের যেসব ট্রেন ভারতে চলাচল করত সেগুলো আমাদের দেশেই আছে।

    তিনি আরও বলেন, ভারতের কিছু ওয়াগন আমাদের দেশে এসেছিল। সেগুলো খালি হওয়ার পর আমরা পাঠাতে পারছি না। কারণ, তারা এগুলো নিচ্ছে না। তাদের এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স থেকে কোনো পারমিশন আসেনি। আমরা তাদের মেইল করে বলেছি, তোমাদের যেসব ওয়াগন খালি আছে সেগুলো নিয়ে যাও। এটাই হচ্ছে বর্তমান অবস্থা।

    এদিকে বিষয়টি দ্রুত দেখার জন্য আজ (১৯ আগস্ট) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদকে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া, আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালানোর বিষয়ে ভারতীয় রেলওয়েকে আজ আরেক দফা বার্তা পাঠানোর কথা।

    কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে সহিংসতার ঘটনায় গত ১৮ জুলাই থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়। ওই দিন রাতে কারফিউ জারির পর ১৯ জুলাই থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। ২৭ দিন পর গত ১৫ আগস্ট থেকে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

  • মেইল-কমিউটার ট্রেন চলাচল শুরু

    মেইল-কমিউটার ট্রেন চলাচল শুরু

    ওয়েব ডেস্ক: দীর্ঘ ২৪ দিন পর আজ থেকে সারা দেশে মেইল/এক্সপ্রেস/লোকাল/কমিউটার ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে, নির্দিষ্ট স্টেশন থেকে ছেড়ে যাচ্ছে। এর আগে সোমবার (১২ আগস্ট) থেকে শুরু হয় মালবাহী ট্রেন চলাচল।

    বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. নাহিদ হাসান খান গত ১১ আগস্ট এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ১২ আগস্ট থেকে মালবাহী ট্রেন, ১৩ আগস্ট থেকে মেইল/এক্সপ্রেস/লোকাল/কমিউটার ট্রেন এবং ১৫ আগস্ট থেকে আন্তঃনগর ট্রেন পর্যায়ক্রমে চলাচল করবে। আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট ১২ আগস্ট বিকেল ৫টা থেকে ক্রয় করা যাবে। তবে পারাবত ও জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

    এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সহকারী প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (এসিওপিএস) কামাল আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন গত ১৯ জুলাই থেকে গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেনের কোচে অগ্নিসংযোগ, কোচের দরজা ও জানালার গ্লাস ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটে।

    জামালপুর এক্সপ্রেসের ছয়টি কোচের জানালা, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের ১৩টি কোচের ৫৮টি জানালা ও ১৮টি দরজা এবং পারাবত এক্সপ্রেসের ১৬টি কোচের ১৪১টি জানালা ও ২৭টি দরজার কাচ ভাঙচুর হয়।

    চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে রেকগুলো আখাউড়া ও ময়মনসিংহে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কোচগুলো বেজ স্টেশন এবং পাহাড়তলী শেডে পাঠিয়ে মেরামত করতে হবে, যা সময়সাপেক্ষে ব্যাপার।

    উল্লেখ্য, জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকা-জামালপুর-ভুঞাপুর-ঢাকা রুটে এবং পারাবত এক্সপ্রেস ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটে চলাচল করে।

    এর আগে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মুখে গত ১৮ জুলাই থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়। তবে সরকারের কারফিউ জারির পর ১৯ জুলাই থেকে পুরোপুরি বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। এর মধ্যে গত ১-৩ আগস্ট পর্যন্ত সীমিত পরিসরে কমিউটার ট্রেন চলাচল করেছে।

  • সাজেক-খাগড়াছড়ি যান চলাচল বন্ধ, আটকা পড়েছেন পর্যটকরা

    সাজেক-খাগড়াছড়ি যান চলাচল বন্ধ, আটকা পড়েছেন পর্যটকরা

    ওয়েব ডেস্ক: গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সড়কের একটি কালভার্ট ডুবে যাওয়ার কারণে সাজেক-খাগড়াছড়ি যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মেঘের রাজ্য খ্যাত সাজেকে যাতায়াতের পথ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে সাজেকে তিন শ থেকে চার শ পর্যটক অবস্থান করছেন। 

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলমান অতি ভারী বর্ষণের ফলে উজান হতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার প্রধান সড়কের একটি কালভার্ট ডুবে গেছে। এতে খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা যান চলাচল সাময়িক বন্ধ আছে। যেহেতু সাজেকে দীঘিনালা হয়ে যাতায়াত করতে হয়, তাই সাজেকে যাতায়াতের পথও সাময়িকভাবে বন্ধ আছে। তাই মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) সাজেক থেকে কোনো গাড়ি ছেড়ে আসেনি বা বাঘাইহাট থেকেও সাজেকে কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে পারেনি। তাই সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের আজ সাজেকেই অবস্থান করতে হয়েছে।

    সাজেক হিল ভিউ রিসোর্টের মালিক ইন্দ্রজিৎ চাকমা বলেন, দীঘিনালা-বাঘাইহাট সড়ক বন্ধ থাকার কারণে সাজেকে বেড়াতে আসা পর্যটক যাদের আজ ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তারা ফিরতে পারেননি। নতুন কোনো পর্যটকও আসেনি আজ। এই মুহূর্তে সাজেকে ১৫০-২০০ পর্যটক অবস্থান করছেন এবং সবাই ভালোভাবেই আছেন।

    সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন বলেন, বাঘাইহাটে যাতায়াত বন্ধ থাকার কারণে সাজেকে পর্যটক যাতায়াত আজ বন্ধ ছিল। কর্তৃপক্ষ থেকে গাড়ি ছাড়তে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোনো গাড়ি আসেওনি, যায়ওনি। তাই নতুন কোনো পর্যটক আসেননি এবং অবস্থানরত পর্যটকদের সাজেকেই থাকতে হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, সাজেকে বর্তমানে দুই থেকে তিন শ পর্যটক অবস্থান করছেন। পর্যটকদের জন্য সব কটেজ রিসোর্টের ভাড়া ৫০% করে দিয়েছি। পাশাপাশি যাদের আজকের জন্য অগ্রিম বুকিং ছিল তাদের টাকাও রিটার্ন করার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে। অগ্রিম বুকিং করা কোনো পর্যটক যদি পরবর্তীতে আসতে চান তাহলে আমরা সেটা সমন্বয় করে দেব।

    বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার বলেন, দীঘিনালায় যে কালভার্টটি ডুবে গেছে সেটি রিকভার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু বাঘাইহাট বাজার এবং মাচালং সেতুতে পানি উঠে ডুবে গেছে। যেহেতু বাঘাইহাট থেকে মাচালং পর্যন্ত দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার, এই দীর্ঘ পথটি পর্যটকদের পক্ষে পাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের অপেক্ষা করার জন্য বলা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আমি সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলেছি, তারা পর্যটকদের জন্য ডিসকাউন্ট দিচ্ছেন। পর্যটকদের কোনো সমস্যা হবে না। বর্তমানে সাজেকে তিন শ থেকে চার শ পর্যটক আছেন।

  • কাপ্তাই হ্রদে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

    কাপ্তাই হ্রদে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

    চৌধুরী হারুনুর রশীদ,রাঙামাটি: পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে সকল ধরণের নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে প্রশাসন। শনিবার (৫ আগস্ট) দুপুরে রাঙামাটি জেলায় চলমান অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

    রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খানের সই করা জরুরি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় চলমান অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জানমালের নিরাপত্তা স্বার্থে অদ্য ৫ আগস্ট (শনিবার) ভোর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে সকল ধরণের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।

    তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জরুরি সরকারি কাজে নিয়োজিত নৌযানসমূহ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। কন্ট্রোল রুমের নম্বর হল: ০১৮২০-৩০৮৮৬৯ এবং ০২৩৩৩৩৭১৬২৩।

    এদিকে, গত বৃহস্পতিবার থেকে রাঙামাটিতে মুষলধারে বৃৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন এলাকায় ও সড়কে মাটি এবং পাহাড় ধসের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত বড় ধরণের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

    রাঙামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য মতে, গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত রাঙামাটিতে ৭৭.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া আজ শনিবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৩৭.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল ৯৪ মিলিমিটার।#

  • ভুলতা-মুড়াপাড়া সড়ক চলাচলের অনুপযোগী ॥ দুর্ভোগ

    ভুলতা-মুড়াপাড়া সড়ক চলাচলের অনুপযোগী ॥ দুর্ভোগ

    রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জনগুরুত্বপুর্ণ রাস্তা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের ভুলতা-মুড়াপাড়া সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানে স্থানে সৃষ্ট গর্তে পড়ে প্রায় বিকল হচ্ছে যানবাহন। লুনা পলিমার ইন্ড্রাষ্টিজ লিমিটেড এ সড়কের পাড়াগাঁও এলাকায় বাঁধ দিয়ে পানি নিস্কাশনের পাইপ লাইন বন্ধ করে দেয়। তাতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এখানে প্রতিনিয়তই হাঁটু সমান পানি জমে থাকে। সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। পাানির নিচে সেই সকল গর্তে উল্টে পড়ছে যানবাহন। ঘটছে দুর্ঘটনা। ছয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়কটি দ্রুত পূনরায় সংস্কার করার জন্য দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

    সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, রূপগঞ্জের ভুলতা ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়নে অর্ধশত গ্রামের মানুষ নিত্য প্রয়োজনে বেহাল দশার এ সড়ক দিয়ে অতিকষ্টে উপজেলা কমপ্লেক্স, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রূপগঞ্জ থানা, রূপগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রী অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস, সরকারি মুড়াপাড়া কলেজসহ গুরুত্বপূর্ণ অফিসে আসা যাওয়া করে থাকেন। চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিয়েই তারা বাধ্য হয়ে এ সড়কে চলাচল করছেন। বর্তমানে সড়কের অধিকাংশ স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। কার্পেটিং ওঠে যাওয়া অংশে ইটের সলিং করে জোড়াতালি দিয়ে কোনো রকম সড়কটি চালু রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার করা হয়নি। সড়কের স্থানে স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই সেই গর্তে পানি জমে থাকে। যানবাহন চলাচলের সময় গর্তের পানি ছিটে যাচ্ছে পথচারী ও দোকানের ক্রেতা-বিক্রেতাদের গায়ে। এছাড়া বেহাল এই সড়কে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা । চরম দুর্ভোগে শিকার হচ্ছেন পরিবহনের চালক ও যাত্রীরা।

    পাড়াগাঁও গ্রামের ইকবাল হোসেন বলেন, ভুলতা-মুড়াপাড়া সড়কের পিচ উঠে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জনজীবনে বেড়েছে চরম দুর্ভোগ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি খানা খন্দে পরিণত হয়েছে।
    আড়াইহাজার উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের লিলি বেগম মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন রূপগঞ্জের বাড়ৈইপাড় গ্রামে। সেই সূত্রে তিনি এই সড়কে প্রায়ই আসা যাওয়া করেন। পাড়াগাঁও এলাকায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় তাঁর । তখন তিনি বলেন, এ সরকারের আমলে রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারের উন্নয়ন হয়েছে ব্যাপক। কিন্তু ভুলতা-মুড়াপাড়া সড়কের বেহাল দশায় সরকারের এখানকার সকল উন্নয়ন ভেস্তে যেতে বসেছে।
    লুনা পলিমার ইন্ড্রাষ্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল হোসেন তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সড়কের পানি নিষ্কাশন বন্ধে কোনো বাঁধ দেয়া হয়নি। তবে কেউ বাঁধ দিয়ে থাকলে তা দ্রুত সরিয়ে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন, ভুলতা-মুড়াপাড়া সড়কের সংস্কার কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শিগগিরই সড়কের সংস্কার কাজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সামিউল কাদের খান বলেন, ভুলতা-মুড়াপাড়া সড়কটি কিছু দিন পরপর সংস্কার কাজ করা হলেও সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তা বিনষ্ট হয়েছে যাচ্ছে। সড়কের আশপাশের শিল্প প্রতিষ্ঠান ও লোকজন সড়কের পানি নিস্কাশনের ড্রেন বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ায় জটিলতা বাড়ছে। তবে আগামী দুই/তিন মাসের মধ্যে ভুলতা থেকে মুড়াপাড়ার মঙ্গলখালী পর্যন্ত চার কিলোমিটার তিন’শ ফুট দৈর্ঘের এ সড়ক আরসিসি করে পুনরায় নির্মাণ করা হবে। সড়কের বাকি অংশ পরবর্তীতে নির্মাণ করা হবে।

     

  • ভোলা-বরিশালে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হলেও কমেছে যাত্রী

    ভোলা-বরিশালে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হলেও কমেছে যাত্রী

    গাজী তাহের লিটন, ভোলা: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রতিবাদে অঘোষিত গণপরিবহন ধর্মঘটের প্রথমদিন ভোলা-বরিশাল রুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কমেছে যাত্রী। ধারণক্ষমতা ও আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ভোলার ভেদুরিয়া ঘাট থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো। আবার বরিশাল থেকেও কম যাত্রী নিয়ে ভোলার ভেদুরিয়া ঘাটে আসছে লঞ্চ।

    শুক্রবার (৫ নভেম্বর) সকালে ভোলার ভেদুরিয়া লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র।

    ভোলা-বরিশাল রুটের যাত্রীবাহী লঞ্চ মেঘদূতের মাস্টার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, আজ সকাল থেকেই যাত্রী সংখ্যা অনেক কম। আমরা বরিশাল থেকে সকাল ৭টায় আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ভোলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসি। সকাল ৯টা ২০ মিনিটে পৌঁছাই।

    তিনি আরও বলেন, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে আজ সকালে ভোলা থেকে বরিশাল ও বরিশাল থেকে ভোলা প্রতিটি লঞ্চে যাত্রী কম রয়েছে। যাত্রীবাহী লঞ্চ আওলাদের মাস্টার বলেন, যাত্রী অর্ধেকের চেয়ে কম। এতে জ্বালানির খরচ উঠবে কিনা সন্দেহ।

    মো. ফাহিমসহ লঞ্চের একাধিক যাত্রী জানান, আজ লঞ্চে যাত্রী অনেক কম। অর্ধেক আসন খালি পড়ে আছে। কোনো ভিড় নেই।

    অন্যদিকে ভোলা-চরফ্যাশন রুটে সকাল থেকে বাস চলাচল করছে। তবে বাসেও যাত্রী আগের চেয়ে কম লক্ষ্য করা গেছে।

  • শেখ হাসিনা নয়, আমাদের চালচলনে মানুষ ব্যথিত হয়: নানক

    শেখ হাসিনা নয়, আমাদের চালচলনে মানুষ ব্যথিত হয়: নানক

    ওয়েব ডেস্ক: দলের একশ্রেণির সুবিধাভোগী নেতাকর্মীদের প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সততা নিয়ে কোথাও কি কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হয়? হয় না। প্রশ্ন উত্থাপিত হয় আমাদের নিয়ে, আমাদের কথাবার্তা-চালচলনে মানুষ ব্যথিত হয়, ব্যথিত হয়ে জনগণ শেখ হাসিনা থেকে দূরে সরে যেতে চায়।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ করবেন, ক্ষমতাসীন দল করবেন, ক্ষমতায় দাপট দেখাবেন, শেখ হাসিনার অর্জনকে বিসর্জ্জন দিবেন, তাদের এ দল করতে দেয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়তে হবে।

    আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পুরান ঢাকার জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এতিমদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটি এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

    এসময় বেসরকারি সেবা সংস্থা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের আঞ্জুমান শেঠ ইব্রাহিম মোহাম্মদ ডুপ্লেক্স বালক হোম ও এ.বি.এম.জি. কিবরিয়া বালিকা হোমের শিক্ষার্থীদের মাঝে এ সামগ্রী তুলে দেয়া হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে নানক ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সুত্রাপুর থেকে পাস করেছিলেন। সেই সুত্রাপুরে দাঁড়িয়ে আমি আপনাদের বলবো, দল করতে গিয়ে যারা নিজের বিবেক-ইমান অর্থের কাছে বিকিয়ে দেয়, বিক্রি করে দেয়, তারা মানুষ হতে পারে না, তারা অমানুষ।

    তিনি বলেন, টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। একটি কথা আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে নিজের বিবেকে জিজ্ঞেস করেন তো, রাস্তা দিয়ে হাঁটেন, বিয়ে-শাদিতে যান, সুন্নতে খাৎনায় যান, মসজিদে যান, জুম্মা পড়তে যান, কোথাও কি শেখ হাসিনার সততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হয়? বরং প্রশ্ন উত্থাপিত হয় আমাদের নিয়ে, আমাদের কথাবার্তা-চালচলনে মানুষ ব্যথিত হয়, ব্যথিত হয়ে জনগণ শেখ হাসিনা থেকে দূরে সরে যেতে চায়। কিন্তু শেখ হাসিনাকে দূরে সরানো যাবে না। শেখ হাসিনা জনগণের নেত্রী, বিশ্ব নেত্রী।

    আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির সদস্য সচিব সুজিত রায় নন্দীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির প্রমুখ।