Tag: বন্যা পরিস্থিতি

  • ৮ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে 

    ৮ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে 

    প্রত্যয় ডেস্ক: টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যার বিস্তার বাড়ছে। প্রথম দফা বন্যার ক্ষত না সারতেই দ্বিতীয় ধাপের এ বন্যায় দেশের লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। তবে এরই মধ্যে আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে আট জেলায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির কথা।

    আজ শনিবার আবহাওয়ার পূর্বভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ আট জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। এসব জেলাসমূহ হচ্ছে সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জ। অপরদিকে মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ি ও ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির স্থিতিশীল থাকতে পারে।

    এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানি সমতল স্থিতিশীল আছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি সমতল হ্রাস শুরু করতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদী সমূহের পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

    আগামী ২৪ ঘণ্টায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদী জামালপুর পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। সারা দেশে পর্যবেক্ষণাধীণ ১০১টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে ৪১টির, হ্রাস পেয়েছে ৫৯টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ১টির এবং বিপদসীমার উপরে রয়েছে ২২ টির। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ৯০ মিলিমিটার এবং লরের গড়ে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

  • কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি: নতুন করে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

    কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি: নতুন করে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি সামান্য কমলেও বাড়ছে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি। জেলায় নতুন করে আরও লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয় দফা পানি বৃদ্ধির ফলে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বানভাসিরা। পরিবার-পরিজন ও গরু-ছাগল নিয়ে রাস্তায় বা বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের। একটি পলিথিনের ছাউনিতে গাদাগাদি করে অবস্থান করতে হচ্ছে পরিবারের সবাইকে।

    এতে চরম সমস্যায় ভুগছেন নারী ও কিশোরীরা। পর্যাপ্ত লেট্রিন সুবিধা না থাকায় অপরিচিত লোকজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে হচ্ছে লেট্রিন। অনেক দূর থেকে পানি আনতে হচ্ছে। বিশেষ প্রয়োজনে রাতে নারীরা বাইরে বের হতে পারছেন না। কোনোভাবে দিন কাটলেও রাত আসতেই আশঙ্কা আর আতঙ্কে দেখা দেয় এসব পরিবারে। গরু-ছাগল যাতে চুরি না যায় এ জন্য পাহারা বসানো হলেও কর্মহীন যুবক ও কিশোরদের নিয়ে একটা সংশয়ে রাত কাটে। কিশোরী মেয়েদের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে অপরিচিত লোকের আনাগোনা বেড়েছে। তাদের আত্মীয় বাড়িতে পাঠিয়েও নিশ্চিন্তে নেই বাবা-মা।

    পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়কে আশ্রয় নেয়া এক মা বলেন, আমার মেয়ে একটি সরকারি স্কুলে ১০ম শ্রেণিতে পড়ে। এই সড়কে এক রাত ছিল। ছেলেদের উৎপাতে শহরে ওর খালার বাড়িতে পাঠিয়েছি। মেয়েটা ওখানে কেমন আছে জানতেও পারছি না।বন্যার সময় দুটো মোরগ আর তিনটা মুরগি নিয়ে এসেছিলাম। একটা খেয়েছি। পরদিন সকালে দেখি বাকিগুলো নেই। কে বা কারা দড়ি খুলে নিয়ে গেছে। পাশের ছাউনি থেকে গত রাতে কে বা কারা দুটো শাড়ি চুরি করে নিয়ে গেছে।

    আরেক কিশোরীর মা বলেন, উপযুক্ত মেয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখাই দুষ্কর। ঘুমন্ত কিশোরী মেয়েকে রেখে ত্রাণ আনতে গিয়েছিলাম। এ সময় প্রতিবেশী এক বয়স্ক পুরুষ তার গায়ে হাত দিয়েছে। এমন নানান সমস্যা আর আশঙ্কায় রয়েছি। এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। বানভাসিদের নিরাপত্তায় পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

    এদিকে টানা দ্বিতীয় দফা বন্যায় ধরলা নদীর পানি কমলেও বাড়তে শুরু করেছে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি। বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০৩ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ৯৬ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর পানি ৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    বন্যায় রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে চিলমারী উপজেলায়। এই তিন উপজেলায় নতুন করে আরও লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। চিলমারীর বড়চর, নটারকান্দি, ঢুষমারা, বজরা দিয়ারখাতা, বাতাসু কাজল ডাঙ্গা, হাতিয়া বকসি, নাইয়ার চর, দুইশো বিঘা, গয়নার পটল, বড় বাগ, খেদাইমারী, খেরুয়ার চর, শাখাহাতী, মনতোলা, তেলী পাড়া, মাঝস্থল, গুড়াতি পাড়া, বাসন্তি গ্রাম, মাঝি পাড়া, হাটি থানা, কালিকুরা, সড়কটারী, দক্ষিণ খামার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘরে হাঁটু পরিমাণ পানি হওয়ায় এসব এলাকার লোকজন আশ্রয়কেন্দ্র, বাঁধের রাস্তা, স্কুল, মাদরাসাসহ বিভিন্ন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। তারা গবাদিপশু নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

    রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-ইমরান জানান, বুধবার সন্ধ্যার দিকে রৌমারী শহর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০০ মিটার ভেঙে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাজারভিটা ফাজিল মাদরাসায় আশ্রয় নেয়া নজির হোসেন (৭৫) জানান, প্রথম দফা বন্যায় ঘরে পানি ওঠায় পরিবার-পরিজন নিয়ে এই মাদরাসায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। বন্যার পানি কমে যাওয়ায় বাড়িতে যাওয়ার সাতদিনের মাথায় আবারও দ্বিতীয় দফা বন্যার পানি ঘরে ওঠায় মাদরাসায় আসতে হলো।

    মাদরাসায় আশ্রয় নেয়া করিমন (৫৫) বলেন, ঘরে কোমর পরিমাণ পানি হওয়ায় অসুস্থ স্বামী-সন্তানদের নিয়ে মাদরাসায় আশ্রয় নিয়েছি। এখানে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছি। উত্তর রমনা বাঁধে আশ্রয় নেয়া আহাম্মদ আলী (৫৫) বলেন, ঘরে এক বুক পানি। তাই বাঁধের রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছি।

    কুড়িগ্রাম ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে জেলা পর্যায়ে ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ এসেছে। এর মধ্যে ১৭০ মেট্রিক টন চাল উপজেলাগুলোতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বরাদ্দ পাওয়া ১৩ লাখ টাকার মধ্যে ৪ লাখ টাকা, ৪ হাজার শুকনো প্যাকেটের মধ্যে দুই হাজার শুকনো প্যাকেট, দুই লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও দুই লাখ টাকার গো-খাদ্য উপজেলাগুলোতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

  • কুড়িগ্রাম, জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি

    কুড়িগ্রাম, জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি

    প্রত্যয় ডেস্ক: দেশের দুই জেলা কুড়িগ্রাম ও জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও আরেক জেলা গাইবান্ধায় বন্যার পরিস্থিতি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। এ জেলায় ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

    কুড়িগ্রাম : ব্রহ্মপুত্র, ধরলার পানি কমতে শুরু করায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, চিলমারী ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কমেছে তিস্তা, দুধকুমারসহ অন্য নদনদীর পানিও। বন্যাকবলিত এলাকার ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে না যাওয়ায় দুর্ভোগ কমেনি বানভাসিদের। ত্রাণ স্বল্পতার কারণে এসব এলাকায় খাদ্য সঙ্কট বেড়েই চলেছে।

    অন্যদিকে ঘরবাড়ি তলিয়ে থাকা পরিবারগুলো পাকা সড়ক, বাঁধ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এসব পরিবারের ঘরবাড়ি থেকে বন্যার পানি সরে না যাওয়ায় তারাও ঘরে ফিরতে পারছে না। বন্যা দুর্গত এলাকায় চলছে গো খাদ্যের সঙ্কট। কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে থাকায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও। জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানান, কুড়িগ্রামে নদনদীর পানি হ্রাস পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যাকবলিতদের জন্য সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ অব্যাহত রয়েছে।

    জামালপুর : যমুনা নদীর পানি হ্রাস পাওয়ায় জামালপুরে বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির বেশ উন্নতি হয়েছে। এ বন্যায় জেলার সাতটি উপজেলার ৪৯টি ইউনিয়নের ৩৫১টি গ্রামের ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৪৪ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে সোমবার বিকাল ৩টায় বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস জানায় বন্যার কারনে ৯৬ কিলোমিটার কাঁচা এবং ১৭ কিলোমিটার পাকা রাস্তা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও বন্যার কারণে ৩ কিলোমিটার বাঁধের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

    ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ৩৬৯টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অপরদিকে বন্যার পানির কারণে ৬ হাজার ৩৯৩টি বাড়ি ঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির বেশ উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা বন্যার্তদের সহযোগিতা কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে লোকজন নিজ নিজ বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছে।

    গাইবান্ধা : ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত হয়েছে। জেলার সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোর মানুষ এখনও শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানি ও গো-খাদ্যের সঙ্কটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিশেষ করে বন্যায় কর্মহীন হওয়ার কারণে শ্রমজীবী মানুষগুলোর মধ্যে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সোমবার ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার মাত্র ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার ২৬টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়ে পড়ায় ১ লাখ ২২ হাজার ৩২০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বন্যায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে চীনা বাদাম, আউশ ধান ও পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

  • বন্যা পরিস্থিতি তদারকিতে ১০ কর্মকর্তা

    বন্যা পরিস্থিতি তদারকিতে ১০ কর্মকর্তা

    নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ১০ জেলার বন্যা পরিস্থিতি তদারকি ও জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম দেখভাল করতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ১০ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। কোন কর্মকর্তা কোন জেলার দায়িত্বে থাকবেন তা নির্ধারণ করে দিয়ে বুধবার আদেশ জারি করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
    অতিরিক্ত সচিব শাহ মোহাম্মদ নাছিমকে রংপুর, অতিরিক্ত সচিব রঞ্জিত কুমার সেনকে লালমনিরহাট এবং অতিরিক্ত সচিব মো. আকরাম হোসেনকে নীলফামারী জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    অতিরিক্ত সচিব শামীমা হককে সুনামগঞ্জ, অতিরিক্ত সচিব আলী রেজা মজিদকে বগুড়া, অতিরিক্ত সচিব মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে সিরাজগঞ্জ এবং অতিরিক্ত সচিব রওশন আরা বেগমকে কুড়িগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যুগ্ম-সচিব আবুল বায়েছ মিয়াকে গাইবান্ধা, যুগ্ম-সচিব মোমেনা খাতুনকে জামালপুর এবং যুগ্ম-সচিব শিখা সরকারকে রাজবাড়ী জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বন্য পরিস্থিতি তদারকি ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান সমন্বয় কেন্দ্রের (এনডিআরসিসি) অতিরিক্ত সচিবকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান জানিয়েছেন, বন্যাদুর্গত জেলাগুলোতে ১০০ টন করে চাল এবং ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় ১০ লাখ এবং ‘বি’ ক্যাটাগরির জেলায় পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। জুলাইয়ের শেষ থেকে আগস্টের দ্বিতীয়-তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে জানিয়ে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যার সময় যদি ত্রাণ বিতরণ করতে হয় সেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, নগদ টাকা মজুদ রাখা হচ্ছে।

  • বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি

    বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি

    প্রত্যয় নিউজ ডেস্ক: টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও জামালপুরের নদনদীতে পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও এই তিন জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। এই পাঁচ জেলায় সাড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। নদীভাঙনের শিকার হয়ে ভিটেমাটি হারিয়েছে বহু মানুষ। সরকারি সহায়তা জরুরি হয়ে পড়েছে। এছাড়া মধ্যাঞ্চলের ৩ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

    টাঙ্গাইল : জেলার সব কটি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় টাঙ্গাইলে প্লাবিত হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। একদিকে করোনাভাইরাস আতঙ্ক অন্যদিকে পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে যমুনা, ঝিনাই ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার সদর, ভূঞাপুর, কালিহাতী, গোপালপুর ও নাগরপুর উপজেলার নদীতীরবর্তী চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া, হুগড়া, কাতুলী, মামুদনগর, ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা, অর্জুনা, গোবিন্দাসী, নিকরাইল, কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর, গোহালিয়াবাড়ি, সল্লা, দশকিয়া; গোপালপুর উপজেলার হেমনগর, নগদাশিমলা, ঝাউয়াইল এবং নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ, ভাড়রা, মোকনা, পাকুটিয়া ইউনিয়নের অর্ধশত গ্রাম সম্পূর্ণ ও গ্রাম শতাধিক আংশিক প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত ও চরাঞ্চলের মানুষ তাদের বাড়ির ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ক্রমাগত বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে টাঙ্গাইলের যমুনা, পুংলী, ঝিনাই, বংশাই ও ধলেশ্বরী নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে যমুনা, ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    সিরাজগঞ্জ : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি হয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাাবিত হচ্ছে। এতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পানিবন্দি মানুষ। বিভিন্ন বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে। সেই সঙ্গে কৃষকরা গবাদিপশু নিয়ে পড়েছে বিপাকে। গবাদিপশু নিয়ে রাত কাটাচ্ছে একসঙ্গে। এসব স্থানে বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে, ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে নদী তীরবর্তী সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায় ক্রমশ বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। এছাড়াও জেলার অভ্যন্তরীণ নদনদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। ইতোমধ্যে প্রায় ৪৫ হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২২টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং চরাঞ্চলের প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমির ফসল। সিরাজগঞ্জে পাঁচটি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়নের ২৪ হাজার ৯২৪টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। ২২টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও চরাঞ্চলের প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর ফসলের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, বন্যায় পাঁচটি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় পানি প্রবেশ করেছে। এসব এলাকার ২১৬টি গ্রামের ২৪ হাজার ৯২৪টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। ২৮০টি ঘরবাড়ি আংশিক, ২২টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কুড়িগ্রাম : ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫২ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ অবস্থায় জেলার চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি থেকে পানি নেমে না যাওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে প্রায় দেড় লক্ষাধিক বানভাসি মানুষের। গত এক সপ্তাহের অব্যাহত বন্যায় কর্মহীন হয়ে পড়া বানভাসি অনেক পরিবারের ঘরে খাবারও শেষ হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে খেয়ে না খেয়ে দিন পাড় করছেন তারা। সরকারিভাবে ত্রান তৎপরতা শুরু হলেও অপ্রতুলতার কারনে অনেকের ভাগ্যে জুটছে না তা। জেলার ৯ উপজেলার ৫০ ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে থাকায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ৬শ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলসহ সবজি ক্ষেত। সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার পারবতীপুর চরের মজির আলী জানান, গত ১ সপ্তাহ ধরে পারবতীপুর চরের সব ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে আছে। বাড়িতে শুকনো জায়গা না থাকায় চুলা জ্বালানো সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে শুকনো খাবার খেতে হচ্ছে তাদের। একই চরের সবিরন, রব্বানী জানান, প্রতিবছর বন্যার আগে কিছু খাবার ঘরে মজুদ রাখতেন তারা। কিন্তু এ বছর করোনা পরিস্থিতির কারনে দীর্ঘ সময় কর্মহীন হয়ে পড়ে আছেন তারা। তাই ঘরের সামান্য খাবার শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে ধারদেনা করে একবেলা খেয়ে না খেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে দিন পার করছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোয় গো খাদ্যের সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

    গাইবান্ধা : ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি সামান্য কমলেও জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। আগাম বন্যায় জেলার চার উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় খাদ্য, সুপেয় পানি, নিরাপদ আশ্রয়সহ নানা সঙ্কটে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বানভাসি মানুষ। একই সঙ্গে কয়েকটি এলাকায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। বন্যার পানি কিছুটা কমলেও পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে স্যানিটেশন সমস্যাও। ঘরে পানি, খাদ্য সঙ্কট আর নদীভাঙনে অস্থির মানুষজনের মাঝে শুরু হয়েছে আহাজারি। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রিত পরিবারগুলো এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ পায়নি বলে অভিযোগে করেছেন। এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত সরকারি বরাদ্দের একটি খাদ্যের দানাও বন্যা দুর্গতদের মাঝে পৌঁছেনি বলে তাদের অভিযোগ। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, বুধবার ব্রহ্মপুত্রের পানি ৭৮ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি ৫০ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ফসলসহ প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে চীনা বাদাম, আউশ ধান ও পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইতোমধ্যে কৃষি বিভাগ ১০৫ একর উঁচু জমিতে বীজতলা তৈরি করেছে।

    জামালপুর : যমুনা নদীর পানি হ্রাস পেলেও জামালপুরে বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যায় জেলার ৭টি উপজেলার ৪২টি ইউনিয়ন ও ৮টি পৌরসভার ৩ লাখ ৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বুধবার বিকাল ৩টার দিকে বিপদসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, বন্যার পানিতে জেলার ৭টি উপজেলায় ১০ হাজার ১৯১ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানান, যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    মধ্যাঞ্চলের ৪ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা
    পদ্মা অববাহিকায় নদনদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত এটা অব্যাহত থাকতে পারে। ইতোমধ্যে পদ্মার গোয়ালন্দ অংশে বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকূল পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। অন্যদিকে আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে মানিকগঞ্জের আরিচা পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এ অবস্থায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে। বুধবার দুপুর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

  • আসামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি, ১০ লাখ মানুষ ঘরছাড়া

    আসামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি, ১০ লাখ মানুষ ঘরছাড়া

    প্রত্যয় ডেস্ক: গত কয়েকদিনের ভারীবর্ষণে আসামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার অনেক ওপরে ওঠে যাওয়ায় উত্তর-পূর্ব ভারতের বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া প্রদেশ আসামে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। জানা গেছে, প্রাণে বাঁচতে বাড়িঘর ছেড়েছেন বন্যায় প্লাবিত এলাকাগুলোর ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।

    মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রাদেশিক সরকারের কর্মকর্তারা। বৃহত্তম নদী ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী ২ হাজারেরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বন্যার পানিতে ডুবে পৃথক ঘটনায় অন্তত দু’জন মারা গেছেন। বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। আসামের ৩৩টি জেলার মধ্যে অন্তত ২৩টি জেলায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।

    প্রদেশটিতে আরও তিনদিন প্রবল এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ বলছে, উদ্ধার অভিযান ও অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে শারীরিক দূরত্ব বজায়ে রাজ্যটিতে আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।