Tag: ব্রহ্মপুত্র

  • কুলিয়ারচর ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    কুলিয়ারচর ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    আলি হায়দার কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: হাতের পাঁচ আঙুল কাটা, পড়নে নতুন জামা-কাপড় ও জুতা, মুখে তোতলানো এক যুবকের লাশ পাওয়া গেছে।

    জানা যায়, শুক্রবার   কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায়, বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ও-পজিটে রাস্তার পাশে ব্রহ্মপুর নদীর তীনে স্থানীয় লোকজন একটি মৃতব্যক্তির লাশ দেখতে পায়। পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দিলে, কুলিয়ারচর থানা পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লাশটির বাঁ-হাতের পাঁচটি আঙুল কাটা ছিলো, পড়নে নতুন জুতা, নতুন জামা-কাপড় পড়া ছিলো এবং মুখ ভারি কোন বস্তু দিয়ে তোতলানো এবং মুখের ডান পাশে কুপের চিহ্ন রয়েছে । তবে লাশের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। লাশের বয়স আনুমানিক ৩১ বছর।

    স্থানীয় লোকজন ধারণা করছেন, অন্য কোথাও মারার পর রাতের অন্ধকারে লাশ এখনে ফেলে রাখা হয়েছে।

    এই বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ এ.কে.এম সুলতান মাহমুদ জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমাদের ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এখন পর্যন্ত লাশের কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

  • গাইবান্ধায় অর্ধশত গ্রাম বন্যায় প্লাবিত (সচিত্র প্রতিবেদন)

    গাইবান্ধায় অর্ধশত গ্রাম বন্যায় প্লাবিত (সচিত্র প্রতিবেদন)

    বগুড়া সংবাদদাতাঃ গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধার ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আশংকা জনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার প্রায় অর্ধশত গ্রামে বন্যা দেখা দিয়েছে । এর ফলে কয়েক হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পরেছে ।

    গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান সাংবাদিকদেরকে  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে, গাইবান্ধায় ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ।

    সোমবার ২৯শে জুন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কয়েকটি গ্রামে ঘুরে দেখা যায় ব্রহ্মপুত্র নদ ও যমুনার মোহনায় পানি বিপৎসীমা অতিক্রমের ফলে এ বছর নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বেশ কিছু গ্রাম। ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দ কামারপাড়া সহ বেশিরভাগ এলাকা সহ যমুনা নদীর পাড়ে বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলার ৪ উপজেলার প্রায় অর্ধশত গ্রামে বন্যা দেখা দিয়েছে৷

     

    ফুলছড়ি থানার ৪ নং গজারিয়া ইউনিয়নের সরকারি ডিগ্রি কলেজ, আলীম মাদ্রাসা ও সংলগ্ন এলাকায় বন্যার প্রকোপ বেশি দেখা গেছে। সরকারি ডিগ্রী কলেজের বাংলার প্রভাষক মোঃ ফজলুল হক জানান যে, গত এক সপ্তাহে তাদের এলাকা সহ নদী সংলগ্ন এলাকায় ৫/৬ ফিট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিগ্রী কলেজ, মাদ্রাসা সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ ঘরবাড়ি এখন ২ ফিট পানির নিচে।         

    এ বিষয়ে সরেজমিনে খোঁজ খবর নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

  • বগুড়া ও আশেপাশের কয়েকটি জেলায় বন্যার সম্ভাবনা (সচিত্র প্রতিবেদন)

    বগুড়া ও আশেপাশের কয়েকটি জেলায় বন্যার সম্ভাবনা (সচিত্র প্রতিবেদন)

    বগুড়ার সংবাদদাতাঃ গত এক সপ্তাহে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক ফুট। এভাবে চলতে থাকলে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পার। আগামী এক সপ্তাহ ধরে যমুনা নদীর পানি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

    কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও আশেপাশের কয়েকটি জেলায় বন্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। ব্রহ্মপুত্রের পানি কুড়িগ্রাম দিয়ে, তিস্তার পানি লালমনিরহাট দিয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করে বন্যা শুরু হতে পারে।

    বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেছেন, বগুড়ার যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ৩৭ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে উত্তরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি হচ্ছে যার ফলে বগুড়ায় বন্যা হবার সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

    বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা যায় যে, যমুনার পানি প্রায় নদীপাড়ের লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করেছে। স্থানীয় লোকজন ইতোমধ্যেই পূর্ব প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধি পেয়ে ধান ও পাটক্ষেতে ঢুকতে শুরু করেছে।

    শুক্রবার সারিয়াকান্দির মথুরাপাড়া, চন্দনবাইস্যা, কালিতলা ঘাটে গিয়ে দেখা যায় যে গত সপ্তাহে যেসকল স্থান শুকনো ছিলো এখন সেসকল এলাকা ৫/৬ ফিট পানির নিচে। লক্ষ্য করা গেছে যে এসব স্থানে পূর্বে পানির উচ্চতা বৃদ্ধির পরিমাপক স্কেল বসানো থাকলেও এবার তা দেখা যায়নি। কালিতলা ঘাট সংলগ্ন দোকানী ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে যানা যায় যে, প্রতিবার এরকম সময়ে এসব স্থানে পরিমাপক স্কেল বসানো থাকলেও এবার এবার এখন পর্যন্ত তা তাদের চোখে পরেনি। তারা আরও অভিযোগ করেন যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তেমন কোনও তৎপরতা তাদের চোখে পরেনি। 

    এসব নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, এখন বন্যার সময়ে পানি বেড়েই থাকে। তিনি আরও জানান যে, এভাবে চলতে থাকলে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার ফলে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট থানার বহু এলাকা বন্যা প্লাবিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।