Blog

  • ওসমান হাদির মস্তিষ্কের অবস্থা ‘খুবই খারাপ’, অবস্থা এখনও ‘আশঙ্কাজনক’

    ওসমান হাদির মস্তিষ্কের অবস্থা ‘খুবই খারাপ’, অবস্থা এখনও ‘আশঙ্কাজনক’

    ওয়েব ডেস্ক: গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থার এখনও দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, তার মস্তিষ্কের অবস্থা ‘খুবই খারাপ’ এবং ক্লিনিক্যালি তিনি আগের মতোই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছেন। তাকে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনাও চলছে। 

    রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে মেডিকেল বোর্ডের জরুরি বৈঠক শেষে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক এ তথ্য জানান। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মেডিকেল বোর্ডের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    হাদির চিকিৎসায় যুক্ত এই চিকিৎসক জানান, হাদিকে আজ সকালে মেডিকেল বোর্ডের মিটিংয়ের আগেই সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। এই রিপিট সিটি স্ক্যানে মস্তিষ্কে ব্যাপক ইডেমা (পানি জমা), অক্সিজেনের ঘাটতি পাওয়া গেছে, যা ব্রেনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মস্তিষ্কের কিছু অংশে ছিটা ছিটা রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণও পাওয়া গেছে। অর্থাৎ সর্বশেষ সিটি স্ক্যান অনুযায়ী হাদির মস্তিষ্কের পরিস্থিতি খুবই খারাপ।

    চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, ফুসফুসের অবস্থা আগের মতোই রয়েছে। বর্তমানে লাইফ সাপোর্টের মাধ্যমে হাদির শ্বাসপ্রশ্বাস চালু রাখা হয়েছে। তবে কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, তার কিডনির কার্যকারিতা স্বাভাবিক আছে। দিনে প্রায় ৪ লিটার ইউরিন আউটপুটের ভিত্তিতে ফ্লুইড ব্যালেন্স করা হচ্ছে।

    এর আগে রক্ত জমাট বাঁধা ও রক্তক্ষরণের ভারসাম্যহীনতা থেকে যে ডিসিমিনেটেড ইনট্রাভাসকুলার কোয়াগুলেশন (ডিআইসি) দেখা দিয়েছিল, সেটির অবস্থাও বর্তমানে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং নতুন করে কোনো সংকট তৈরি হয়নি বলে জানান চিকিৎসক।

    তবে চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড়ো উদ্বেগের জায়গা এখনো মস্তিষ্ক। ব্রেন স্টেম ইনজুরি এখনো গুরুতর অবস্থায় রয়েছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যেদিক দিয়ে অপারেশন করা হয়েছিল, তার বিপরীত পাশ দিয়ে মস্তিষ্ক সামান্য বাইরের দিকে চাপ দিচ্ছে বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    বিদেশে পাঠানো প্রসঙ্গে চিকিৎসক বলেন, ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি জানান, মেডিকেল বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি কেস সামারি প্রস্তুত করে দেওয়া হয়েছে। বিদেশের কোন হাসপাতাল সেই কেস সামারি পর্যালোচনা করে রোগীকে গ্রহণ করলে তবেই বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আসবে।

    তিনি আরও বলেন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর বা অন্য কোন দেশে নেওয়া হবে—এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। পাশাপাশি রোগীকে বিদেশে স্থানান্তরের মতো শারীরিক স্থিতিশীলতা আছে কি না, সেটিও বড়ো প্রশ্ন হিসেবে রয়ে গেছে।

  • শিশু সাজিদের মৃত্যুর ঘটনায় ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

    শিশু সাজিদের মৃত্যুর ঘটনায় ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

    ওয়েব ডেস্ক: বরেন্দ্র অঞ্চলে পরিত্যক্ত ও অরক্ষিত নলকূপে পড়ে দুই বছর বয়সী শিশু সাজিদের মৃত্যুর ঘটনায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে সাজিদের পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ অরক্ষিত নলকূপ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

    রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম মিয়া নোটিশটি পাঠান।

    লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় শত শত পরিত্যক্ত ও অরক্ষিত নলকূপ জনসাধারণের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

    সম্প্রতি রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্ব পাড়া গ্রামে একটি পরিত্যক্ত নলকূপে পড়ে শিশু সাজিদের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার স্পষ্ট প্রমাণ।

    নোটিশে সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ১৫ দিনের মধ্যে একাধিক নির্দেশনা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

    এর মধ্যে রয়েছে—সব পরিত্যক্ত নলকূপ চিহ্নিত করে জরিপ, রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে সিল/ভরাট বা স্থায়ীভাবে বন্ধকরণ, অবৈধ নলকূপ খননে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, নিরাপদ নলকূপ ব্যবস্থাপনায় মানসম্মত কার্যপ্রণালি (SOP) প্রণয়ন, অননুমোদিত নলকূপ স্থাপনা রোধে কঠোর নজরদারি এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা।

    এ বিষয়ে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে বিষয়টি জনস্বার্থ মামলা (PIL) হিসেবে হাইকোর্ট ডিভিশনে দায়ের করা হবে। এ ঘটনায় অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্টে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বরেন্দ্র অঞ্চলে অরক্ষিত নলকূপকে ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে শিশুদের জীবন ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

  • ‘হাদির হামলাকারীরা পালিয়ে ভারত গেছে’ এমন তথ্য নিশ্চিত নয় ডিএমপি

    ‘হাদির হামলাকারীরা পালিয়ে ভারত গেছে’ এমন তথ্য নিশ্চিত নয় ডিএমপি

    ওয়েব ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীরা ভারতে পালিয়ে গেছেন কিনা, এমন তথ্য নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

    রোববার (‌১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য জানান ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

    তিনি বলেন, ডিবিসহ ডিএমপির একাধিক টিম কাজ করছে। আমরা এখন পর্যন্ত, সম্ভাব্য খুনিরা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার তথ্য পাইনি।

    সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ডিএমপি

    ওসমান হাদির ওপর হামলার তদন্ত সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

    ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক ক্ষুদে বার্তায় জানানো হয়েছে, আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।

    উল্লেখ্য, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং তার সহযোগি মোটরসাইকেলচালক আলমগীর হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় (১২ ডিসেম্বর) সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে। তাদের বর্তমান অবস্থান আসামের গুয়াহাটি শহরে।

    তিনি আরও জানান, ভারতে তাদের সহায়তা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. মাসুদুর রহমান বিপ্লব। বিপ্লবের তত্ত্বাবধানে এই হত্যাকারীরা ভারতে অবস্থান করছে।

    পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই আক্রমণ করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি হিট টিমের একইরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তির চেষ্টা রয়েছে।

  • হাদিকে গুলি করার ঘটনায় সন্দেহভাজন মাসুদের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ

    হাদিকে গুলি করার ঘটনায় সন্দেহভাজন মাসুদের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ

    ওয়েব ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ও তার আইটি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড’-এর সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। 

    রোববার (১৪ ডিসেম্বর) এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ফয়সাল করিম মাসুদের প্রতিষ্ঠানটি বেসিস-এর সদস্য।

    তার মালিকানাধীন ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপেল সফট আইটি লিমিটেড’ কোম্পানিটি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া ২০১৬ সালে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সহযোগিতা ও সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ‘ব্যাটল অব ৭১’ নামে একটি কম্পিউটার গেম তৈরি করেছিল ওয়াইসিইউ টেকনোলজি লিমিটেড। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকও ফয়সাল করিম মাসুদ।

    ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের (এখন নিষিদ্ধ) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০১৯ সালের ১১ মে ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি সদস্য হয়েছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। মোটরসাইকেলে থাকা আততায়ী তাকে গুলি করে মোটরসাইকেলে করেই পালিয়ে যায়। হাদি এখন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    ওসমান হাদির প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারসহ বিভিন্ন জায়গায় তার সঙ্গে ফয়সাল করিমের সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ছবি রয়েছে। সেই ছবিগুলোতে থাকা ফয়সাল করিমের সঙ্গে গুলি করা ব্যক্তির চেহারার সাদৃশ্য থাকায় গুলি ছোড়ার ঘটনায় তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে।

    এরইমধ্যে ওসমান হাদিকে গুলি করা ব্যক্তিকে ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

    বিভিন্ন সূত্র বলছে, ফয়সাল করিম ২০১৩ সালে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটারবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। পরে আরেকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এমবিএ করেছেন। ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় নাম আসার পর ফয়সাল করিমের সঙ্গে আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশের দুইবারের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতার ছবি ফেসবুকে প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে হাদির সঙ্গে ঢাকা–৮ আসনে গণসংযোগ এবং বাংলামোটরে হাদির প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের আড্ডায় ফয়সালের অংশ নেওয়ার ছবিও ভাইরাল হয়েছে। অনেকে ধারণা করছেন, ফয়সাল করিম ওসমান হাদিকে বেশ কিছুদিন ধরে অনুসরণ করছিলেন।

    ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘আসনভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা ও সমন্বয়ক কমিটি’ করেছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ঢাকা–১২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। এই আসনের সমন্বয়ক কমিটির সদস্য ছিলেন ফয়সাল করিম।

    জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকার আদাবরের বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটি এলাকায় ব্রিটিশ কলাম্বিয়া স্কুলের চতুর্থ তলায় অফিসে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আদাবর থানায় একটি মামলা হয়েছিল। ওই মামলার প্রধান আসামি ছিলেন ফয়সাল করিম। মামলা হওয়ার কিছুদিন পর ৭ নভেম্বর আদাবর এলাকা থেকে ফয়সাল করিমকে গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাব। তখন তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচটি গুলি, তিনটি মোবাইল ফোন ও পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল।

    ওই মামলায় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান ফয়সাল করিম। জামিনের সময়সীমা বাড়াতে গত ১২ আগস্ট আবারও আবেদন করলে হাইকোর্ট নতুন করে তার এক বছরের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনে থাকা অবস্থায় এবার তার বিরুদ্ধে ওসমান হাদিকে গুলি করার বিষয়টি সামনে এলো।

  • হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক আটক

    হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক আটক

    ওয়েব ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একইসঙ্গে মোটরসাইকেলটির মালিক সন্দেহে একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে র‍্যাব। আটকের নাম মো. আব্দুল হান্নান (৪৩)।

    রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করে র‍্যাব।

    র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, আজ সকালে আব্দুল হান্নানকে র‍্যাব-২ রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আটক করে। আটক করার পর আজ সকালেই তাকে পল্টন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    র‍্যাব জানায়, ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর (ঢাকা মেট্রো-ল-৫৪-৬৩৭৫) শনাক্ত করা হয়। পরে বিআরটিএর মাধ্যমে যাচাই করে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে মো. আব্দুল হান্নানের নাম পাওয়া যায়।

    এরই ধারাবাহিকত মোহাম্মদপুর থানাধীন চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল হান্নান মোটরসাইকেলটির মালিক বলে স্বীকার করেছেন।

    এর আগে পুলিশ জানায়, ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

    রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওসমান হাদি। তিনি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন বলে জানা গেছে।

    গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর ২টা ২৪ মিনিটের দিকে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। পেছন থেকে অনুসরণ করে আসা একটি মোটরসাইকেল থেকে এক ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন। গুরুতর অবস্থায় দ্রুত তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

  • হাদির গুলির মতো ঘটনা আরও ঘটার আশঙ্কা মির্জা ফখরুলের

    হাদির গুলির মতো ঘটনা আরও ঘটার আশঙ্কা মির্জা ফখরুলের

    ওয়েব ডেস্ক: নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ যখন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখছে সেই সময় আবার নতুন করে দেশের শত্রুরা হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

    তিনি বলেন, গত পরশু একটি হত্যাচেষ্টা হয়েছে।

    রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।

    এরকম ঘটনা আরও ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি, এইরকম আরও ঘটনা ঘটতে পারে।’

    বিএনপির মহাসচিব জানান, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। তার পক্ষ থেকে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তারা শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এসেছেন, শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, শপথ গ্রহণ করেছি, যেকোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।

    ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের যোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ অনেককেই তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে বলে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, জাতি তার সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারিয়েছে।

    বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে মেধাহীন করে দেওয়ার জন্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল। এই দিনে বারবার সেই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কথা জাতি মনে করবে, স্বাধীনতার চেতনাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

  • সুদানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা চালাল কারা?

    সুদানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা চালাল কারা?

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সুদানের আবেইতে ড্রোন হামলায় ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। তারা জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী আবেইর (ইউনিএসএফএ) অধীনে সেখানে মোতায়েন ছিলেন। গতকাল শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) এ ভয়াবহ হামলা হয়।

    গৃহযুদ্ধে জর্জরিত সুদানের সেনা-সরকার এ নিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে। তারা নিন্দা জানিয়ে বলেছে, প্যারামিলিটারি র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) শান্তিরক্ষীদের ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

    দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান শান্তিরক্ষীদের ওপর এ হামলাকে ‘বিপজ্জজনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    আরএসএফ হলো সেই বাহিনী যারা দেশটির এল-ফেশার শহরে ভয়াবহ গণহত্যা চালিয়ে একদিনে দুই হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছিল।

    তবে আরএসএফ হামলার দায় অস্বীকার করেছে। গতকাল শনিবার টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, শান্তিরক্ষীদের ওপর ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর যে দায় তাদের দেওয়া হচ্ছে এটি মিথ্যা।

    ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরএসএফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে করে পৃথিবীর অন্যতম দরিদ্রতম দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। যা কেড়ে নিয়েছে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।

    আরএসএফকে সরাসরি অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এল-ফেশারে ভয়াবহ গণহত্যা চালানোর পর তাদের নৃসংশতা জনসম্মুখে আসে।

    • সুদানে গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত কীভাবে?

    ২০১৯ সালে সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। তিনি ১৯৮৯ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিলেন।

    ওই বছর তার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসেন সাধারণ মানুষ। এরপর সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান ঘটিয়ে তার তিন দশকের শাসনের অবসান ঘটায়। কিন্তু দেশটিতে গণতন্ত্র ফেরেনি। যেটির জন্য মানুষ এখনো সংগ্রাম করছেন।

    ২০১৯ সালে একটি সেনা-বেসামরিক যৌথ সরকার গঠন করা হয়। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে এ সরকারকেও ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।

    • অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে কারা?

    ওই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান। যিনি সুদানের সেনাপ্রধান একইসঙ্গে ডি ফ্যাক্টো প্রেসিডেন্ট।

    আরেকজন হলেন আরএসএফ নেতা জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো। তিনি ‘হামেদতি’ নামে বেশি পরিচিত।

    কিন্তু এই অভ্যুত্থানের পর তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। দেশ কিভাবে চলবে এবং বেসামরিক সরকার গঠন নিয়ে তাদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়।

    তাদের দুজনের মধ্যে সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্বের বিষয় ছিল আরএসএফের শক্তিশালী এক লাখ সদস্যকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে। আরএসএফ সেনাদের মূল সেনাবাহিনীতে যুক্ত করার পর তাদের নেতৃত্ব কে দেবে? এ নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

    এই দুই জেনারেলের কেউই ক্ষমতা, সম্পদ, আধিপত্য কিছু ছাড়তে চাননি।

    টানা কয়েকদিনের ব্যাপক উত্তেজনার মধ্যে ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এর জেরে দেশব্যাপী আরএসএফ সেনাদের মোতায়েন করা হয়। যেটিকে সেনাবাহিনী নিজেদের জন্য হুমকি হিসেবে নেয়।

    কোন পক্ষ প্রথম গুলি ছুড়েছিল সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে খুব দ্রুত সশস্ত্র লড়াই সুদানজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এরমধ্যে আরএসএফ রাজধানী খারতুমের বেশিরভাগ অংশ দখল করে ফেলে। টানা দুই বছর লড়াইয়ের পর সেনাবাহিনী ২০২৫ সালের মার্চে আবারও খারতুমের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়।

    • আরএসএফ কারা?

    আরএসএফ গঠিত হয়েছিল ২০১৩ সালে। তারা মূলত কুখ্যাত জানজউইদ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিল। এ বাহিনী দারফুরের বিদ্রোহীদের কঠোর হস্তে দমন করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে অ-আরবদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও নির্মমতার অভিযোগ রয়েছে।

    দারফুরের বিদ্রোহীদের দমন ও নতুন বাহিনী প্রতিষ্ঠার পর থেকে আরএসএফ প্রধান জেনারেল দাগলো একটি শক্তিশালী বাহিনী গঠন করেন। যেটি ইয়েমেন এবং লিবিয়াতেও সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নিয়েছে।

    আরএসএফ প্রধান সুদানের কিছু সোনার খনির নিয়ন্ত্রণ করেন। এখানকার সোনা সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাচার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    সুদানের সেনাবাহিনীর অভিযোগ, আরএসএফকে সহায়তা করে আরব আমিরাত। এছাড়া আমিরাত সরাসরি সুদানে ড্রোন হামলাও চালিয়েছে। যদিও আমিরাত এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    এছাড়া পশ্চিম লিবিয়ার শক্তিশালী মানুষ জেনারেল খলিফা হাফতারও আরএসএফকে সহায়তা করে বলে অভিযোগ সুদানের সেনাবাহিনীর। তাদের দাবি, আরএসএফকে অস্ত্র; এমনকি সেনা দিয়েও সহায়তা করেন খলিফা হাফতার।

    ২০২৫ সালের জুনের শুরুতে আরএসএফ লিবিয়া এবং মিসর সীমান্তর্বর্তী সুদানের বিশাল সীমান্ত এলাকা দখল করে। যা তাদের জন্য বড় জয় ছিল।

    এরপর তারা অক্টোবরের শেষ দিকে দখল করে এল-ফাশার। যার অর্থ দারফুরের বেশিরভাগ এবং এর পার্শ্ববর্তী কোরদোফান অঞ্চল আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

    আরএসএফ এসব জায়গায় বিদ্রোহী সরকার গঠন করেছে। যার অর্থ সুদান আবারও দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেছে। এরআগে ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান নামে আলাদা একটি দেশের জন্ম হয়। যেখানে সুদানের বেশিরভাগ তেলক্ষেত্র গুলো ছিল।

    সূত্র: রেডিওতামাজুজ, বিবিসি

  • ট্রাইব্যুনালে হাজির ১৫ সেনা কর্মকর্তা, নিরাপত্তা জোরদার

    ট্রাইব্যুনালে হাজির ১৫ সেনা কর্মকর্তা, নিরাপত্তা জোরদার

    ওয়েব ডেস্ক: আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে টিএফআই-জেআইসি সেলে গুম-নির্যাতন ও চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক তিন মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। 

    রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ জেল-প্রিজন ভ্যান লেখা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সবুজ রঙের গাড়িতে করে তাদের আনা হয়। এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    জেআইসি সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এ মামলায় ১৩ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেবেন ট্রাইব্যুনাল-১। গত ৯ ডিসেম্বর এ দিন নির্ধারণ করা হয়।

    এ মামলায় গ্রেপ্তার তিন সেনা কর্মকর্তা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

    এছাড়া র‍্যাবের টিএফআই সেলে গুম-নির্যাতনের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর আজ শুনানি করবেন স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। গত ৩ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শুনানিতে গুমের ভয়াবহ বর্ণনা তুলে ধরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন করেন তিনি।

    মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে সাব-জেলে রয়েছেন ১০ সেনা কর্মকর্তা। তারা হলেন- গ্রেপ্তার ১০ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন- র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

    অপরদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। গত ৬ ডিসেম্বর ফরমাল চার্জের বিষয়ে শুনানি শেষ করেন চিফ প্রসিকিউটর। আসামিপক্ষ ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীদের শুনানি হবে আজ। রেদোয়ানুল ছাড়া অপরজন হলেন বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম।

    এদিকে, সেনা কর্মকর্তাদের আনা উপলক্ষ্যে বরাবরের মতোই হাইকোর্টের মূল ফটকে কঠোর নিরাপত্তায় রয়েছে পুলিশ-সেনাবাহিনী। ট্রাইব্যুনাল ফটকের দুই পাশেও বিজিবি-র‍্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তৎপর দেখা গেছে এপিবিএনসহ সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও।

  • চট্টগ্রামে আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুইজন গ্রেপ্তার

    চট্টগ্রামে আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুইজন গ্রেপ্তার

    ওয়েব ডেস্ক: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও থানা পুলিশের অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন আহম্মদ মোস্তফা (২৬) এবং অনিক কান্তি দে (২৪)। তাদের বাড়ি কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানাধীন হোয়ানক এলাকায়।

    জেলা পুলিশ সূত্র জানা গেছে, রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোয়েন্দা শাখা ও বাঁশখালী থানার যৌথ অভিযানে বাঁশখালী থানাধীন ডায়াবেটিক হাসপাতালের সামনে চেকপোস্টে একটি মিনিট্রাক তল্লাশি করা হয়। ট্রাকটির ভেতর থেকে ১টি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র (এলজি) উদ্ধার এবং মিনিট্রাকসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) রাসেন বলেন, অস্ত্রসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বাঁশখালী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

  • নাটোরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাবেক এমপিপুত্র নিহত

    নাটোরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাবেক এমপিপুত্র নিহত

    ওয়েব ডেস্ক: নাটোরের বাগাতিপাড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাবেক এমপি মরহুম নওশের আলী সরকার বাদশার ছেলে মিল্টন আলী নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার পাকা ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মিল্টন আলী ১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নওশের আলী বাদশার ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় মিল্টন আলী নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে চিথলিয়া বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন একই এলাকার সেকেন্দারের ছেলে সান্টু। পথে গ্রামের একটি সরু মেঠো সড়কে মোটরসাইকেলটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের একটি ছোট খাদে পড়ে যায়।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিল্টন আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রেজাউল করিম বলেন, খাদে পড়ে যাওয়ার পরপরই মিল্টন আলীর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।